শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এখনই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার সময় আসেনি

জুলাই থেকে ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ১৩ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট

জুলাই থেকে ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে

দেশের পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের জন্য প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস পাওয়ার পর আগামী জুলাই থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং অবসায়ন হলে আমানতকারীদের স্বার্থ কীভাবে রক্ষা করা যায়, সে বিষয়ে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনই এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

বন্ধ বা অবসায়নের তালিকায় থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে ঋণের অর্থ আদায়ে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতেও ব্যর্থ হয়েছে। ফলে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংক রেজুলেশন আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবসায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি আরও দুজন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। গভর্নর পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে জানিয়েছেন, সরকার আগামী বাজেটে এ অর্থ বরাদ্দ রাখার আশ্বাস দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণেই এসব প্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি এতটা সংকটাপন্ন হয়েছে। বিশেষ করে আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারিগুলোর প্রভাবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তারল্য সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

অবসায়ন প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হবে আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ধাপে ধাপে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে পাওনাদারদের অর্থ পরিশোধ করা। এর মাধ্যমে দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে কঠোর বার্তা দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এতে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। আসলে বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে আলোচনা করেছে, কিন্তু এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবসায়নের ক্ষেত্রে আমানতকারীদের স্বার্থ কীভাবে রক্ষা করা যায় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এসব পর্যালোচনা শেষে সরকারকে জানানো হবে। মূলত সরকারই এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের সংকেত দেবে। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে তা সংবাদমাধ্যমকে জানাবে। এখনও বিষয়টি সেই পর্যায়ে পৌঁছেনি।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৩:৫২ এএম | বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
------
Contact

-----------------

ফোন : --------------------

E-mail: -----------------------