রবিবার ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

রানুর কবিতা

  |   বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট

রানুর কবিতা

এসো, গল্প করি কিছুক্ষণ!
বলো কেমন আছো?
তোমার লেখা কবিতাগুলো ছাপা হয়েছে কি?
আর জানালার পাশের শিউলি গাছ?
ফুল ফোটে? গন্ধ বিলায়?
আর সেই পোষা টিয়া পাখি? এখনো আছে?
নাকি পাখনা মেলে ছিনিয়ে নিয়েছে তার স্বাধীনতা?
শুনেছিলাম তোমার নাকি খুব বুক ব্যথা হয় ইদানীং!
কমেছে কিছুটা?
ডাক্তার দেখাচ্ছো না কেন?

সেদিন গান শুনছিলাম – এই দুনিয়া এখন তো আর
সেই দুনিয়া নাই!
মিতালী মুখার্জির গাওয়া!
বেশ আগের গান, আমরা তখন বেশ ছোট!
দেখলাম মানুষগুলো বদলে গিয়েছিল তখনো!
এখনও তাই!
আমিও আগের মতো আর নেই, জানো?
ওজন বেড়েছে, কপালে বয়সের ভাঁজ ,
অনেক কিছুই ভুলে ভুলে যাই!
এই যেমন সেদিন, রান্না ঘরে ঢুকেছি চা বানাবো বলে!
কিছুতেই মনে পড়লো না কেন গেলাম সেখানে!
হা হা হা-
কেমন হাস্যকর, তাই না?
অথবা বেদনাদায়ক!
আমি আগের মতো নেই আর।

তোমার কথাও যে প্রতিদিন মনে পড়ে
এমন নয়!
কথা ছিল, আমরা যেখানেই থাকি- চিঠি লিখব!
জানবো আর জানাবো- কেমন কাটে বিষন্ন বিকেল
অথবা ঘুমহীন রাত!
না, আমরা কথা রাখি নি!
কালেভদ্রে মুঠোফোনে কথা হলেও জানা হয় না
অন্তর্দহন কতোটা কার!
কি? বিরক্ত হচ্ছো?
ভাবছো, এসব বলে সময় নষ্ট কেন?
রবীন্দ্রনাথের মতো বলে বসো না আবার-
“সময় কোথায় সময় নষ্ট করার!”
ঠিক আছে, এসো অন্য কিছু বলি!

তোমার সেই ছাত্রীটা কেমন আছে?
যাকে নিয়ে তুমি ঝর্ণা দেখতে গিয়েছিলে!
লম্বা অবয়ব, ঘন চুল আর মায়াভরা চোখ!
কোমরে হাত দিয়ে কি সুন্দর একটা ছবি তুলেছিলে!
সত্যি সুন্দর দেখাচ্ছিল-
জয় গোস্বামীর কবিতার মতো –
“স্বীকার করি, দুইজনকেই মানিয়েছিল ভালো!”
আহা, রাগ করছো কেন? বললাম না ইদানীং গুলিয়ে ফেলি সব।
তোমার মনে আছে- একবার আমার বারান্দায় দোলনচাঁপা গাছ লাগিয়েছিলাম।
না, ফুল ফোটানো যায় নি।
মরে গিয়েছিল গাছগুলো দারুণ অভিমানে।
তোমার সিগারেটের গোড়া কবরোস্থ হয়েছিল সেখানে।
বহুদিন পর মাটিগুলো ফেলাতে গিয়ে মনে হলো
নিকোটিনে পুড়ে যাওয়া তোমার ঠোঁট
আমার দোলনচাঁপা হতে পারতো না কখনো!
ফুল ফোটানো রাতে আমার খোঁপায় আঁধার কালো!
ভালোই হয়েছে! কি বলো?

এই দেখ, আবার কাঁদছো কেন?
তুমি কাঁদতে পারো? সত্যি?
তোমার যুক্তি, তোমার অহংবোধ, তোমার পুরুষ হবার সাধনা –
তোমাকে কাঁদতে দেয় নি তো আগে কখনো!
তুমি জিততে চাইতে, তুমি বোঝাতে চাইতে
ভুল তোমাকে দিয়ে হয় না!
তুমি সব জানতে, তুমি কিছুই মানতে না!
অশ্রুজল! – সেতো কাপুরুষের দুর্বল হাতিয়ার, বড্ড মেয়েলি ব্যাপার!
আর এখন এই সন্ধিক্ষণে তোমার চোখ দেখো কেমন
প্রতারণা করলো!
এক একটা অশ্রু যেন হাজার রাতের গল্প করে যাচ্ছে!
আমি শুনছি! শুনে যাচ্ছি! অবাক হচ্ছি!

আমরা আগের মতো নেই প্রিয়!
আমি হয়ে গেছি কঠিন চুনাপাথর, আর তুমি সোদামাটি!
কেমন রিভার্স একটা অবস্থা বলো!
তোমার যত্নে গড়া শরীর ভেঙে পড়েছে,
আর আমার দায়িত্বে ন্যুব্জ কাঁধ নুয়ে গেছে!
আমরা সময়ের কাছে আত্মসমর্পণ করেছি।
একা হয়েছি নিজেদের গন্ডিতে!
পেছনের দিকে তাকালে কেমন ভয়াবহ শূন্যতা, দেখো!
আমি ভয় পাই! আমি গুটিয়ে যাই!

বাদ দাও, এসো গল্প করি অন্য কিছু নিয়ে!
দেখো, পাখিটা কেমন অদ্ভুত মায়াভরে বাসা বুনছে আমাদের বাগানবিলাস গাছে!
নতুন জীবন শুরু হচ্ছে আমাদের খুব কাছেই!

 

শাহানাজ রানু
৩০ এপ্রিল ২০২৬
আবুধাবি

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১:২১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
শুভ শাহরিয়ার
Contact

৫৫-৫৫/১, রমনা, ঢাকা, বাংলাদেশ।

ফোন : +৮৮০১৯৭১৪৫৮২৫৭

E-mail: info@focusbangla24.com, focusbangla24online@gmail.com