আমিরুল সজীব | বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট
বাইরে ঝড়। তারেক বসে আছে চুপ করে। ভাবছে। মাথার ভেতর আরেক ঝড়।
সবচেয়ে কঠিন সমস্যাগুলো ভবিষ্যতের জন্য ফেলে রেখেছিল, আর সবচেয়ে সহজগুলো বাদ দিয়ে জীবনের সমাধান বেছে নিয়েছিল অতীতে।
এখন অংক এলোমেলো।
ঝড়ের গতি আরো বাড়ছে। তারেক আরো বুঁদ হচ্ছে।
ভেতরে যুদ্ধের দামামা বাজতে দিচ্ছে। শেষমেশ ভালোই লাগছে। মনে হচ্ছে মহাবিশ্বের ছন্দের সাথে নিজেকে মেলাতে পারছে। তারেক ভাবছে সে কি আসলেই কোন ছন্দে আছে, নাকি নেই?
নাহ, ছন্দহীন।
তার ডেস্কে একটা বই। বন্ধ, বইয়ের উপরে ধুলো জমা। সে হাত বাড়ায়। আবার সরিয়ে নেয়।
ট্যালবট বলেছিলেন মন আর বাইরের জগত আলাদা না। তারেক বোঝার চেষ্টা করে। বুঝতে পারে না। নাকি পারে।
হয়তো পারে।
ঝড় থামে না। তারেক উঠে দাঁড়ায়। দরজার সামনে যায়। ঝড়ের ভেজা ঝাপটা একটু লাগুক না।
তারেক ভাবে দরজা খোলার কথা। মনের দরজা। হ্যামিং বলেছিলেন দরজা বন্ধ রাখলেও কাজ হয়। কিন্তু এতে সম্পর্কগুলো হারায়, আসল মানুষটাও হারিয়ে যায়।
তারেক কি হারিয়েছে?
মাথার ভেতর সমাধানের আর যুদ্ধের নানা মডেল ঘুরছে। ম্যাট্রিক্স। লুপ। সব এলোমেলো। কোনো শৃঙ্খলা নেই।
না না, আবার আছেও।
সে একটা কাগজ টানে। কলম ধরে। কিছু লিখতে যায়। থামে।
মস্তিষ্কের দ্রুত আর ধীর দুটো সত্তা, এখন দুটোই একসাথে কথা বলছে। তারেক শুনবে কাকে?
ঝামেলা হচ্ছে।
বৃষ্টির গন্ধ ঘরে ঢুকছে। তারেক চোখ বন্ধ করে। ভাবে ছোট ছোট অভ্যাসের কথা। প্রতিদিন একটু বেশি। চক্রবৃদ্ধি হারে। কিন্তু সে শুরুই করেনি।
এখন করবে।
ঝড় কমে না। তারেক কলম শক্ত করে ধরে। কাগজে একটা লাইন লেখে। মাত্র একটা।
বাইরে ঝড় থামছে না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তারেক স্থির হচ্ছে। কাগজে লেখা লাইনে লেখা আছে তারেকের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের কথা।
ভেতরে যুদ্ধের দামামা বাজছে, তবু এটাতে মহাবিশ্বের ছন্দ আছে। এটা ঝড় নয়।
লেখক: ব্যাংক কর্মকর্তা
Posted ৪:১৫ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
9 News Bd | s s