| শনিবার, ০২ মে ২০২৬ | প্রিন্ট
গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই কর্মীদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই নারী থাকবেন এবং তারা ঘরে ঘরে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবেন।
শনিবার (২ মে) সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের মূল দায়িত্ব হবে গ্রামে গ্রামে গিয়ে প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা। শহরেও তারা কাজ করবেন, তবে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে গ্রামীণ জনপদকে। বিশেষ করে যারা পরিবারের দেখভাল করেন, তাদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করে তুলতে কাজ করবেন তারা।
তিনি আরও বলেন, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার মাধ্যমে কীভাবে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা কিডনি রোগের ঝুঁকি কমানো যায়—এসব বিষয়ে জনগণকে সচেতন করবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। সারাদেশে মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে, সিলেট নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খননকে কার্যকর সমাধান হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অল্প বৃষ্টিতেই নগরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়, আর অতিবৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। একইসঙ্গে হাওরাঞ্চল, বিশেষ করে সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় বন্যার কারণে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার দেশের বিভিন্ন শহরে পানির স্তর নিচে নামিয়ে দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্ষার পানি সংরক্ষণ করা গেলে তা কৃষি ও নগর জীবনে কাজে লাগানো সম্ভব। খাল খননের মাধ্যমে সেই সুযোগ সৃষ্টি করা যাবে।
নদী দূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। প্লাস্টিক ও পলিথিনসহ নানা বর্জ্য নদীতে ফেলার ফলে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে বলে জানান। তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গা নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তাই জনগণকে এ বিষয়ে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সিটি করপোরেশনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই এ বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন, কারণ তারা পরিবারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সড়ক যোগাযোগ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সিলেট থেকে লন্ডনে যেতে যেখানে সাড়ে ৯ ঘণ্টা লাগে, সেখানে সড়কপথে সিলেট থেকে ঢাকায় যেতে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ হওয়ায় শুধু রাস্তা সম্প্রসারণ করলে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সড়কের পাশাপাশি দ্রুত ঢাকা-সিলেট রেলপথ ডাবল লাইনে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
Posted ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০২ মে ২০২৬
9 News Bd | s s