| শনিবার, ০২ মে ২০২৬ | প্রিন্ট

বাংলাদেশিদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ওয়ার্ক পারমিট ও টুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর দাবিতে জোরালো দাবি উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে ভিসা প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় দেশটির শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং সম্ভাবনাময় বিপুল কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য—বিশেষ করে ইউএই—বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রেমিট্যান্স উৎস। প্রতিবছর প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে দেশে যে বৈদেশিক মুদ্রা আসে, তার একটি বড় অংশই আসে এই দেশ থেকে। দুবাই, শারজাহসহ বিভিন্ন শিল্পনগরীতে নির্মাণ, সেবা ও পরিবহন খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাদের দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠা ইতোমধ্যেই সুনাম অর্জন করেছে।
তবে বর্তমান ভিসা জটিলতার কারণে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ থেকে নতুন শ্রমিক পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ইউএইতে অবস্থানরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা সংকটে পড়েছেন। তাদের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় জনবল থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ করতে না পেরে বাধ্য হয়ে অন্যান্য দেশের শ্রমিকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে ব্যয় বাড়ছে এবং বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাচ্ছে।
ইউএইতে বসবাসরত এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী বলেন, “বাংলাদেশি শ্রমিকরা দক্ষ ও পরিশ্রমী, তাদের চাহিদা এখানে আছে। কিন্তু ভিসা বন্ধ থাকায় আমরা নিজের দেশের মানুষকে কাজ দিতে পারছি না, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।”
তিনি আরও বলেন, “এই সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ সরকারের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ জরুরি। কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো, উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার মাধ্যমে এই অচলাবস্থা দূর করা সম্ভব।”
প্রবাসী নারী উদ্যোক্তা ও আল বোরাক গ্রুপ অব কোম্পানির ম্যানেজিং পার্টনার শেফালী আক্তার আখিঁ (সিআইপি) বলেন, ভিসা প্রক্রিয়া পুনরায় চালু হলে তা শুধু শ্রমবাজার নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বৈদেশিক আয়ের উৎস আরও শক্তিশালী হবে।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা এ বিষয়ে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন। তাদের আশা, কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান হবে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজারে আবারও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারবেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা।

Posted ৮:০২ এএম | শনিবার, ০২ মে ২০২৬
9 News Bd | s s


