শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

বিদেশি ঋণ পরিশোধে বাড়তি চাপ, ৯ মাসেই অতিক্রম সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার

  |   বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট

বিদেশি ঋণ পরিশোধে বাড়তি চাপ, ৯ মাসেই অতিক্রম সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার

দেশের অর্থনীতিতে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেই (জুলাই–মার্চ) বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা সংস্থার কাছ থেকে নেওয়া ঋণের সুদ ও আসল মিলিয়ে পরিশোধ করতে হয়েছে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চিত্র, যা ঋণ ব্যবস্থাপনায় ক্রমবর্ধমান চাপের ইঙ্গিত বহন করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে বাংলাদেশ মোট ৩৫২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে। এর মধ্যে ২২৭ কোটি ৬৪ লাখ ডলার ছিল মূল ঋণের কিস্তি এবং প্রায় ১২৫ কোটি ডলার সুদ। একই সময়ে বিদেশি ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে দেশে এসেছে ৩৮৯ কোটি ডলার, যার মধ্যে ৩৫০ কোটি ডলার ঋণ এবং ৩৮ কোটি ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ঋণ গ্রহণের পাশাপাশি পুরোনো ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ বাড়ায় সামগ্রিক ঋণ পরিস্থিতি এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। গত কয়েক বছর ধরেই এই চাপ ঊর্ধ্বমুখী। গত অর্থবছরে প্রথমবারের মতো বিদেশি ঋণ পরিশোধ ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়, যেখানে মোট পরিশোধ ছিল ৪০৯ কোটি ডলার। তার আগের বছর এই পরিমাণ ছিল ৩৩৭ কোটি ডলার। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরের শেষে মোট পরিশোধ ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রেও কিছুটা ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বাংলাদেশ প্রায় ২৮০ কোটি ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি পেয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ নতুন প্রতিশ্রুতি কমলেও পরিশোধের চাপ কমছে না।

ঋণ ছাড়ের দিক থেকে দেশ ও সংস্থাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এই সময়ে রাশিয়া সবচেয়ে বেশি ঋণ দিয়েছে—প্রায় ৮৩ কোটি ডলার। এরপর রয়েছে বিশ্বব্যাংক, যেখান থেকে এসেছে প্রায় সাড়ে ৭৬ কোটি ডলার। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক দিয়েছে প্রায় ৬১ কোটি ডলার। এছাড়া চীন থেকে ৫২ কোটি ডলার, জাপান থেকে ৩১ কোটি ডলার এবং ভারত থেকে ২৪ কোটি ডলার ঋণ পাওয়া গেছে।

সরকার মূলত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এই ঋণ গ্রহণ করে। পাশাপাশি বাজেট সহায়তা হিসেবেও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ঋণ নেওয়া হচ্ছে। জানা গেছে, এ খাতে প্রায় ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগীরা বেসরকারি খাতেও ঋণ ও বিনিয়োগ দিয়ে থাকে।

বিদেশি ঋণের পাশাপাশি দেশীয় ঋণের চাপও বাড়ছে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছে। যদিও আংশিক পরিশোধের পর বর্তমানে এই পরিমাণ কমে প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে দেশি ও বিদেশি উভয় ঋণের চাপ একসঙ্গে অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণ গ্রহণ নিজেই নেতিবাচক নয়, তবে তা কতটা দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সময়মতো পরিশোধ করা যাচ্ছে কিনা—সেটিই মূল বিষয়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর নির্ভর করেই এই ঋণ পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু বৈশ্বিক অস্থিরতা, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং রপ্তানির দুর্বলতা এই ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন করে তুলছে।

সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের ক্রমবর্ধমান চাপ দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে ঋণ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি, অপ্রয়োজনীয় ঋণ গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদনশীল খাতে ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে এই চাপ আরও বেড়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১:১৭ পিএম | বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
------
Contact

-----------------

ফোন : --------------------

E-mail: -----------------------