রবিবার ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
ওড়িশার কেওঁঝর জেলায় দারিদ্র্য, অজ্ঞতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার নির্মম চিত্র

মৃত বোনের কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে ব্যাংকে হাজির ভাই, তবেই মিলল টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট   |   বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট

মৃত বোনের কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে ব্যাংকে হাজির ভাই, তবেই মিলল টাকা

ভারতের ওড়িশা রাজ্যের কেওঁঝর জেলা থেকে উঠে এসেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা, যা সমাজের প্রান্তিক মানুষের বাস্তবতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কঠোর চিত্রকে আবারও সামনে এনেছে।
জানা গেছে, জেলার এক দরিদ্র দিনমজুর জিতু মুন্ডা (৫০) নিজের মৃত বোনের কঙ্কাল কাঁধে তুলে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ হেঁটে ব্যাংকে হাজির হন। তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল বোনের জমা রাখা সামান্য সঞ্চয় তুলে আনা।
জিতুর বোন কালরা গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ সালে মারা যান। বোনের মৃত্যুর প্রায় তিন মাস পর তিনি ওড়িশা গ্রামীণ ব্যাংক-এর মালিপোসি শাখায় গিয়ে তার অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার রুপি তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞ থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বারবার তাকে ফিরিয়ে দেয়। ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অ্যাকাউন্টধারীকে ‘সশরীরে’ উপস্থিত হতে হবে।
বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়ে এবং চরম আর্থিক সংকটে পড়ে জিতু মুন্ডা বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে, বোনের মৃত্যুর ‘প্রমাণ’ দেখানো ছাড়া তিনি টাকা পাবেন না। সেই ভুল ধারণা থেকেই তিনি বোনের কবর খুঁড়ে কঙ্কাল বের করেন এবং তা কাঁধে নিয়ে ব্যাংকের উদ্দেশে রওনা দেন।
এই ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মহলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। পরে পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে জিতু মুন্ডাকে তার বোনের একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেয় ব্যাংক।
এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়; এটি গ্রামীণ ভারতের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বাস্তবতার এক নির্মম প্রতিফলন। দারিদ্র্য, শিক্ষার অভাব, আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং কঠোর প্রশাসনিক নিয়ম—সব মিলিয়ে কীভাবে একজন মানুষকে চরম পর্যায়ে ঠেলে দিতে পারে, তারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ঘটনা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা এড়াতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে আর্থিক সচেতনতা বাড়ানো এবং ব্যাংকিং সেবাকে আরও মানবিক ও সহজলভ্য করা জরুরি। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও সহানুভূতিশীল আচরণ ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৩:৪০ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
শুভ শাহরিয়ার
Contact

-----------------

ফোন : --------------------

E-mail: -----------------------