আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে মাইনমুক্ত করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক মূল্যায়নে। এই দীর্ঘ সময় নৌপথটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ অব্যাহত থাকবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সংঘাত শুরুর পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালিকে কার্যত অচল করে রেখেছে। বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য এই নৌপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই রুটে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা দ্রুতই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলে এবং জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দেয়।
বর্তমানে যুদ্ধবিরতির পরিবেশ থাকলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে প্রণালির ব্যবহার এখনো কার্যত সীমিত। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি রপ্তানিকারক ও আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে এবং বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগে মাইন অপসারণের মতো জটিল সামরিক অভিযান শুরু করা সম্ভব নয়। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়েও সমুদ্রপথ নিরাপদ করতে কয়েক মাস সময় লাগবে। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একটি গোপন ব্রিফিংয়ে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে পেতে রাখা নৌ-মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা অত্যন্ত জটিল কাজ। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে ২০টিরও বেশি মাইন থাকতে পারে, যার কিছু উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর এবং দূর থেকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। ফলে এগুলো শনাক্ত ও অপসারণ উভয়ই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী প্রণালির বিস্তীর্ণ এলাকাকে ‘বিপজ্জনক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। প্রায় ১ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটারজুড়ে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা একটি বড় নগরীর চেয়েও বহুগুণ বিস্তৃত। এতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই মূল্যায়নের কিছু অংশ নিয়ে ভিন্নমতও প্রকাশ করা হয়েছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র প্রতিবেদনের কিছু তথ্যকে সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন। এরপরও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার আশঙ্কা রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় ঝুঁকিপূর্ণ বা বন্ধ থাকলে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট এবং উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালির দ্রুত স্বাভাবিক না হওয়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে স্থায়ী হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
Posted ১২:৪৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
9 News Bd | s s