শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
প্রথম আলো ও ৭১ চ্যানেলের প্রতিবেদনকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি

কামারপাড়া স্কুলের ১৬৪ শতাংশ জমি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট

কামারপাড়া স্কুলের ১৬৪ শতাংশ জমি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

উত্তরা কামারপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৬৪ শতাংশ জমি হস্তান্তর এবং এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে মিথ্যা, একপেশে ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির তুরাগ থানার আহ্বায়ক মো. জহিরুল ইসলাম। জমির মালিকানা, হস্তান্তর প্রক্রিয়া ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জহিরুল ইসলাম বলেন, দৈনিক প্রথম আলো ও ৭১ চ্যানেলে কামারপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং উত্তরা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের জমি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরা হয়নি। তাঁর দাবি, এসব প্রতিবেদনের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১০ সালে কামারপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৬৪ শতাংশ জমি উত্তরা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের নামে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম জমি লিখে দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন জহিরুল ইসলাম। আরও কয়েকজন শিক্ষকও চাপের মুখে এলাকা ছেড়েছিলেন বলে দাবি করা হয়।

পরে খুরশিদ জাহান নামের এক শিক্ষিকাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির তৎকালীন সভাপতি আবুল হাশেমের মাধ্যমে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ম ও অনুমোদন মানা হয়নি বলে দাবি করেন জহিরুল ইসলাম। ২০১৮ সালে হাবিব হাসান সংসদ সদস্য হওয়ার পর জমিটি নিয়ে আবারও দলিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

জহিরুল ইসলামের ভাষ্য, ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় জমিটি দখলের চেষ্টা হলে স্থানীয় বাসিন্দা, বিএনপির নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মাধ্যমে তা উদ্ধার করে বিদ্যালয়ের অনুকূলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি জানান, ১৯৭৭ সালে তাঁর বাবা মরহুম আব্বাস আলী মেম্বার বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য জমিটি দান করেছিলেন।

বিদ্যালয়ের বর্তমান আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষকেরা গত ছয় থেকে সাত মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। এ পরিস্থিতিতে আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়। তাঁর দাবি, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ দরদাতা রফিক ইঞ্জিনিয়ারিংকে মাসিক ১৬ লাখ টাকা ভাড়ায় তিন বছরের জন্য জমিটি কাঁচামালের আড়ত হিসেবে ব্যবহারের চুক্তি দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে হরিরামপুর সাংস্কৃতিক সংসদের অর্থ আত্মসাৎ এবং উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের একটি বস্তি এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়। জহিরুল ইসলামের দাবি, মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে কিছু পক্ষ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।

তিনি সাংবাদিকদের প্রতি প্রকৃত তথ্য অনুসন্ধান করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জমি হস্তান্তর, মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি। তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষগুলোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১০:৪৯ এএম | বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
------
Contact

-----------------

ফোন : --------------------

E-mail: -----------------------