ফোকাসবাংলা২৪ ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট
বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ওয়েবসাইট পরিচালনায় বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং প্রযুক্তি পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশেও উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে সরকারের সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জারি করা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, নিরাপত্তাত্রুটি দুটির সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই ছাড়াই দূর থেকে সার্ভারে ক্ষতিকর নির্দেশনা চালাতে পারে। এতে সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, গোপন তথ্য চুরি এবং ওয়েবসাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
‘পিএইচপি২শেল’ নামে পরিচিত এই দুর্বলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকারি সংস্থা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ঝুঁকি মোকাবিলায় ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিরাপত্তাত্রুটি প্রকাশের পর হামলার চেষ্টা দ্রুত বেড়েছে।
ঝুঁকিতে যেসব ওয়েবসাইট
পিএইচপি-এফপিএম, অ্যাপাচির মড-পিএইচপি, পিএইচপি-সিজিআই, ফ্রাঙ্কেনপিএইচপি ও লাইটস্পিড প্রযুক্তি ব্যবহারকারী সার্ভারগুলো বিশেষভাবে ঝুঁকির মুখে থাকতে পারে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, অনলাইন সেবা এবং বিভিন্ন ওয়েবভিত্তিক ব্যবস্থায় পিএইচপি ব্যবহৃত হওয়ায় নিরাপত্তাঝুঁকির পরিধি বিস্তৃত হতে পারে।
তবে বাংলাদেশের সরকারি ন্যাশনাল পোর্টাল ব্যবস্থার ওয়েবসাইটগুলো পিএইচপি দিয়ে তৈরি নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ফলে ওই ব্যবস্থার ওয়েবসাইটগুলো সরাসরি এই ত্রুটির কারণে ঝুঁকিতে পড়ার কথা নয়। তবে এর বাইরে থাকা সরকারি দপ্তর ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে পিএইচপি ব্যবহৃত হলে সেগুলো পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদের নির্দেশনা
বিজিডি ই-গভ সার্ট সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সার্ভারে কোথায় পিএইচপি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা শনাক্ত করে সংস্করণ যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সংস্করণগুলো দ্রুত নিরাপত্তা সমাধানযুক্ত সংস্করণে হালনাগাদ করতে হবে। পাশাপাশি সার্ভারের লগ পরীক্ষা করে সন্দেহজনক কার্যক্রম বা সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের চিহ্ন খুঁজে দেখতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ওয়েবসাইটের সফটওয়্যার হালনাগাদ করলেই হবে না; সার্ভারে ব্যবহৃত পিএইচপি সংস্করণও নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। দ্রুত হালনাগাদ সম্ভব না হলে সাময়িকভাবে নেটওয়ার্কে প্রবেশ সীমিত করা ও অতিরিক্ত সুরক্ষাব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ সার্ভার দ্রুত শনাক্ত, নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধন এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্ষতি কমানো সম্ভব। তবে সতর্কতা জারি হওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট সব ওয়েবসাইট ইতিমধ্যে সাইবার হামলার শিকার হয়েছে, এমন নয়।
Posted ৫:৫০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
9 News Bd | s s