শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

সেন্ট মার্টিনে বিনা মূল্যে খতনা, হাসপাতালে ৫০ শিশু

কক্সবাজার প্রতিনিধি   |   বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট

সেন্ট মার্টিনে বিনা মূল্যে খতনা, হাসপাতালে ৫০ শিশু

কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্ট মার্টিন দ্বীপে বিনা মূল্যে খতনা করানোর পর ৫০ শিশু বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের কয়েকজনের খতনার ক্ষতস্থানে রক্তক্ষরণ ও সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে দুজনকে বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সেন্ট মার্টিন অবকাশ নামের একটি রিসোর্টে ২১০ শিশু ও কিশোরের খতনা করানো হয়। তাদের বয়স ছিল ৫ থেকে ১৫ বছর। ‘আল মোমিন সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

কর্মসূচির দুই দিন পর মঙ্গলবার থেকে শিশুদের কয়েকজন অসুস্থ হতে শুরু করে। তাদের মধ্যে কারও খতনার ক্ষতস্থানে ব্যথা ও ফুলে যাওয়ার পাশাপাশি পুঁজ দেখা দেয়। পরে কয়েকজনের ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণও শুরু হয়। একপর্যায়ে স্বজনেরা শিশুদের সেন্ট মার্টিন দ্বীপ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ হাসপাতালের উপসহকারী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার ৫০ শিশু চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসে। তাদের কয়েকজনের ক্ষতস্থানে সংক্রমণ ও রক্তক্ষরণ ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর দুজনকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, কর্মসূচির আওতায় মোট ২১০ শিশুর খতনা করানো হয়েছিল। দুই দিন পর কিছু শিশু বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে যায়। স্বজনদের কাছ থেকে ক্ষতস্থানে ব্যথা, ফোলা, পুঁজ ও রক্তক্ষরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে বুধবার সকালে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসক নওশাদ আলমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি চিকিৎসক দল সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে রওনা হয়। দলটি দ্বীপে পৌঁছে আক্রান্ত শিশুদের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, খতনা কর্মসূচির বিষয়ে তাঁদের আগে থেকে জানানো হয়নি। কর্মসূচির পর ৫০ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে মূলত দুজনের ক্ষতস্থানে সংক্রমণ হয়েছিল। তাদের দ্বীপে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্য শিশুদের যেসব সমস্যা হয়েছে, সেগুলো খতনার পর স্বাভাবিকভাবে হতে পারে বলেও তিনি জানান।

তবে একসঙ্গে এত শিশুর খতনা করানোর পর স্বাস্থ্যগত জটিলতার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্যই চিকিৎসকদের একটি দল দ্বীপে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসক দলের প্রতিবেদনে কোনো ধরনের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৭:৫২ এএম | বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
------
Contact

-----------------

ফোন : --------------------

E-mail: -----------------------