আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট

ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে মোতায়েন থাকা সব বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার (৪ অক্টোবর) মার্কিন বি-১ বোমারু বিমানগুলো ঘাঁটি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়।
এর আগে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ঘাঁটিটিতে প্রায় এক ডজন বি-১ বোমারু বিমান মোতায়েন ছিল।
পেন্টাগনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে সামরিক সরঞ্জাম ও সেনাদের চলাচলের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে এখন নিশ্চিত হওয়া গেছে, ফেয়ারফোর্ডে থাকা সব মার্কিন বোমারু বিমান নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরে গেছে।
বিমানগুলো ঠিক কী কারণে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সময় মার্কিন বোমারু বিমানগুলোর জন্য ফেয়ারফোর্ড গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
লন্ডন থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই ঘাঁটির কাছে গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিস্ফোরক পুঁতে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ। পরে তাদের কোনো অভিযোগ ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের ব্যবহৃত ভ্যানে পেট্রোল পাওয়া গেলেও কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। ইরানও ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এরপর গত বৃহস্পতিবার লন্ডনে ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিমানঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ আনা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম দাবি করেছেন, কথিত ওই হামলা পরিকল্পনায় ইরানের ভূমিকা ছিল। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি। সন্ত্রাসবাদ দমন পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ভিকি ইভান্স জানিয়েছেন, ঘটনায় বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গত সপ্তাহে তেহরানে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ইরান। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মার্কিন স্থাপনায় ‘বড় ধরনের ক্ষতি’ করার পরিকল্পনার অভিযোগ করেছেন।

Posted ৭:০১ এএম | সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
9 News Bd | s s


