নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট

বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি পর্বে রয়েছে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রথম ইউনিটের নিরাপত্তা ভালভের ১৬ মেগাপ্যাসকেল চাপের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই ১৮ মেগাপ্যাসকেল চাপে আরও একটি পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। সব পরীক্ষা ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী ডিসেম্বরের শেষ দিকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
রূপপুর প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্ধারিত সময় প্রায় দুই মাস পিছিয়ে যায়। সর্বশেষ পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রণ ভালভের কার্যকারিতা, খোলা ও বন্ধ হওয়ার সময়, সাড়া দেওয়ার গতি, সতর্কসংকেত এবং প্রয়োজনীয় চাপ ও তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। পরীক্ষার আগে অগ্নিনিরাপত্তা ও তেজস্ক্রিয়তা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও যাচাই করা হয়।
চুল্লির ভেতরে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে তা নির্ধারিত সীমার মধ্যে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ভালভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রথম ইউনিট চালুর আগে আরও কয়েকটি পরীক্ষা বাকি রয়েছে। এসব পরীক্ষা শেষ হলে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিভাজনের মাধ্যমে তাপ উৎপাদন শুরু হবে। সেই তাপ থেকে বাষ্প তৈরি করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, চুল্লিতে শক্তি উৎপাদন শুরু হলে ধাপে ধাপে ক্ষমতা ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। তখন প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এরপরও কয়েক মাস পরীক্ষামূলক উৎপাদন চলবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ৭ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত চলতে পারে।
এদিকে রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা নাকচ করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। প্রথম ইউনিটের প্রয়োজনীয় জ্বালানি ২০২৩ সালেই রূপপুরে পৌঁছেছে। গত মে মাসে প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে জ্বালানি প্রবেশ করানোর কাজ শেষ হয়। সম্প্রতি অতিরিক্ত একটি চালানও দেশে এসেছে। দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানিও প্রস্তুত রয়েছে এবং শিগগিরই এর প্রথম চালান দেশে আসার কথা। দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট নয়টি চালান আসবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক জ্বালানি সহজে সংগ্রহ করা যায় না বলে আগাম মজুত রাখা জরুরি। প্রথম ইউনিটে উৎপাদন শুরুর পর কোনো জ্বালানি অ্যাসেম্বলিতে সমস্যা হলে তা দ্রুত প্রতিস্থাপনের জন্য অতিরিক্ত জ্বালানি প্রয়োজন। একইভাবে দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানিও উৎপাদন শুরুর আগেই রূপপুরে মজুত করতে হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, ত্রুটির কারণে প্রকল্পের কাজ কিছুটা পিছিয়ে গেলেও এখন সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। অল্প কয়েকটি পরীক্ষা শেষ হলেই পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড। রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট নির্মাণকাজ করছে।
প্রকল্পটির প্রাথমিক মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। দুই দফা মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। তবে ডলারের বিনিময়মূল্য বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে।

Posted ৮:৩৩ এএম | রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
9 News Bd | s s


