নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্বস্তি ফিরছে না। এর মধ্যে সয়াবিন তেল ও চিনির সরবরাহ সংকটে ক্রেতাদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের (এমআরপি) চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পণ্য দুটি। কোথাও প্যাকেটজাত চিনি ও বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। খোলা তেল ও চিনি কিনতেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। পাশাপাশি ডিমের দামও রয়েছে ঊর্ধ্বমুখী।
শুক্রবার রাজধানীর রামপুরা, হাজীপাড়া, মালিবাগ, সেগুনবাগিচা ও মগবাজারের কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে প্যাকেটজাত এক কেজি চিনির নির্ধারিত দাম ১১০ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। একইভাবে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৪ টাকা নির্ধারিত থাকলেও ক্রেতাদের দিতে হচ্ছে ২১০ টাকা। সরবরাহ সংকটের কারণে অনেক দোকানে প্যাকেট চিনি ও বোতলজাত তেল মিলছে না। খোলা পণ্যও বিক্রি হচ্ছে প্যাকেটজাত পণ্যের সমান দামে।
হাজীপাড়ার মুদি দোকানি সোহাগ মিয়া জানান, চিনির প্যাকেটে ১১০ টাকা দাম লেখা থাকলেও পাইকারি পর্যায়ে কিনতে হচ্ছে ১১৩ টাকায়। ফলে বাধ্য হয়ে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করছেন তাঁরা। লোকসান এড়াতে অনেক দোকানি প্যাকেটজাত চিনি রাখা বন্ধ করেছেন।
বিক্রেতা খলিলুর রহমান বলেন, প্যাকেটে ১১০ টাকা লেখা থাকায় ১২০ টাকা চাইলে ক্রেতাদের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। তাই প্যাকেট খুলে খোলা চিনি হিসেবে বিক্রি করলে ঝামেলা কম হয়।
তেলের সরবরাহে সংকট
খুচরা বাজারে কয়েক সপ্তাহ ধরে সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে না। বিক্রেতাদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করছে না। কোনো কোনো দোকানে তেল থাকলেও তা ক্রেতাদের চোখের আড়ালে রাখা হচ্ছে। সরবরাহ সংকটের সুযোগে বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
সম্প্রতি সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে ব্যবসায়ীরা আরও দাম সমন্বয়ের দাবি জানাচ্ছেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তাঁরা।
বিক্রয় প্রতিনিধিদের বরাতে জানা গেছে, নতুন করে দাম সমন্বয় না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানিগুলো খুচরা পর্যায়ে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে আগ্রহী নয়।
সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের মামা-ভাগ্নে সুপার শপের বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় দেড় মাস ধরে কোম্পানিগুলো তেলের অর্ডার নিতে চাচ্ছে না। কমিশন কমিয়ে লিটারপ্রতি মাত্র এক টাকা করা হয়েছে। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন পাইকারি বাজার থেকে ডিলার ও পরিবেশকদের মাধ্যমে নিজেদের খরচে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, তেল-চিনি ছাড়া মুদি দোকান চালানো কঠিন। তাই বেশি দামে কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা হচ্ছে। অনেক সময় অপরিচিত ক্রেতাদের কাছে তেল-চিনি বিক্রি করতেও চান না তাঁরা।
ডজন ডিম ১৬৫ টাকা
এদিকে ডিমের বাজারেও স্বস্তি নেই। সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি প্রায় পাঁচ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। পাড়া-মহল্লার দোকানে চারটি ডিম কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৫৫ টাকা। সে হিসাবে প্রতি ডজনের দাম পড়ছে ১৬৫ টাকা।
তবে ব্রয়লার মুরগির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারভেদে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়।
সবজির বাজারেও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। ১০ থেকে ১৫ দিন আগে দাম বাড়ার পর কিছু সবজির কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা কমেছে। তবে অধিকাংশ সবজিই এখনো তুলনামূলক চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। আটা ও ময়দার দামও রয়েছে আগের মতোই বাড়তি।

Posted ৬:১৫ এএম | শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
9 News Bd | s s


