শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম আসছে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি   |   মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট

রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম আসছে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি ইউরেনিয়াম অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে দেশে পৌঁছাতে পারে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সাতটি বিশেষ উড়োজাহাজে রাশিয়া থেকে মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

আগের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গত ২৪ সেপ্টেম্বর জ্বালানিবাহী একটি কার্গো উড়োজাহাজ বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত রুটে একটি দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জটিলতা কাটিয়ে এখন বিকল্প পথে জ্বালানি আনার প্রস্তুতি চলছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, সাধারণত জ্বালানিবাহী বিশেষ উড়োজাহাজ বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশে পৌঁছায়। পরদিন সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। এ হিসাবে আগামী ১ অক্টোবর প্রথম চালান পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে রোসাটম ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় ২৪ সেপ্টেম্বর জ্বালানিবাহী কার্গো বিমানটি আসতে পারেনি। প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন জানান, ওই দিন জ্বালানি গ্রহণের জন্য প্রকল্প কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত ছিল। পরে রোসাটম ফ্লাইট বিলম্বের বিষয়টি জানায়। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী ফ্লাইটের সময়সূচি লিখিতভাবে জানাতে রোসাটমকে অনুরোধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্পর্শকাতর পারমাণবিক জ্বালানি বিশেষ কার্গো বিমানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আনা হয়। এ ক্ষেত্রে উড়োজাহাজের চলাচলের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি প্রয়োজন। ২৪ সেপ্টেম্বরের ফ্লাইটের ক্ষেত্রে রাশিয়া ও বাংলাদেশের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও একটি দেশের অনুমতি না পাওয়ায় যাত্রা স্থগিত করা হয়।

নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, কার্গো বিমানটির কাজাখস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের আকাশসীমা ব্যবহার করে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। বিকল্প হিসেবে চীন ও মিয়ানমার হয়ে অথবা অন্য কোনো রুটে জ্বালানি আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ ধরনের জটিলতার পেছনে প্রয়োজনীয় তথ্য বা নথিপত্র সময়মতো না পৌঁছানো, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি কিংবা অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। তবে ফ্লাইট বাতিলের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানায়নি।

পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর গ্রামে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। কেন্দ্রটিতে তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর রয়েছে, যার সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

এর আগে রোসাটমের নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেটস প্ল্যান্টে উৎপাদিত ১৬৪টি তাজা ফুয়েল অ্যাসেম্বলি ২০২৩ সালের অক্টোবরে বিশেষ নিরাপত্তায় রাশিয়া থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়। পরে সেগুলো রূপপুর প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:০৪ পিএম | মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
------
Contact

-----------------

ফোন : --------------------

E-mail: -----------------------