নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট
জাপানের ইউনিভার্সিটি অব তোয়ামায় উচ্চশিক্ষার জন্য শতভাগ অর্থায়িত মেক্সট (MEXT) বৃত্তি পেয়েছেন এস এম শাহরিয়ার আহমেদ সৃজন। এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জনের পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে এবার উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে জাপানের পথে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি।
সৃজনের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, পরিবারের সহযোগিতা এবং মায়ের নিরলস ত্যাগ ও অনুপ্রেরণা। পরিবারের সদস্যদের প্রত্যাশা, উচ্চশিক্ষা শেষে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন তিনি।
২০১৪ সালে এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং ২০১৬ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেন সৃজন। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২২ সালে স্নাতক এবং ২০২৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এবার জাপানের ইউনিভার্সিটি অব তোয়ামায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
সৃজনের বাবা এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল একজন গণমাধ্যমকর্মী। মা শাহানাজ আক্তার সন্তানের শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় মূল্যবোধে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই মায়ের দোয়া নিয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার অভ্যাস ছিল সৃজনের। সন্তান বাইরে যাওয়ার আগে ‘আম্মু’ বলে সাড়া না দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন মা। বর্তমানে তিনিও মহিলা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছেন।
সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে মায়ের ত্যাগের স্মৃতিও পরিবারের কাছে বিশেষভাবে আবেগের। পরিবারের সদস্যরা জানান, সৃজনের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে গিয়ে অনেক সময় নিজের খাওয়া-দাওয়ার কথাও ভুলে যেতেন শাহানাজ আক্তার।
সৃজনের ছোট বোন সানজিদা আক্তার সামিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর স্ত্রী ইসরাত জাহান লিয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনে যুক্ত হয়েছেন।
পরিবারের সদস্যদের কাছে সৃজনের শৈশবের আরেকটি স্মৃতি বিশেষভাবে আবেগঘন। ছোট বোনের হাতের একমুঠো ভাত না খেলে তাঁর খাওয়া যেন পূর্ণ হতো না। আজ উচ্চশিক্ষার জন্য হাজার মাইল দূরে পাড়ি জমালেও পরিবারের সেই ভালোবাসা ও স্মৃতি তাঁর সঙ্গে থাকবে।
সৃজনের পারিবারিক শিকড়েও রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেমের ইতিহাস। তাঁর বড় জ্যাঠা বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ারেন্ট অফিসার (অব.) হাজী মো. নজরুল ইসলাম সরকার। পাশাপাশি মামা-খালাদের স্নেহ ও সহযোগিতায় বেড়ে উঠেছেন তিনি।
জাপানে উচ্চশিক্ষার সুযোগকে সৃজনের পরিবার একটি সম্মিলিত স্বপ্নপূরণ হিসেবে দেখছে। তাঁদের প্রত্যাশা, বিদেশে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাবেন তিনি। মায়ের দোয়া, বাবার অনুপ্রেরণা এবং নিজের অধ্যবসায়কে পুঁজি করে সৃজনের এই যাত্রা তাই একটি পরিবারের শিক্ষার প্রতি অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার প্রতিচ্ছবি।
Posted ৬:২৮ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
9 News Bd | s s