নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট
দেশের অন্যতম পুরোনো বেসরকারি ব্যাংক পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুর রহমান ও এমডি মোহাম্মদ আলীকে ঘিরে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, ঋণ বিতরণ, নিয়োগ ও পরিচালনায় ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে।
দুদক পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রায় ২১১ কোটি টাকা অনিয়ম ও অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে। এ জন্য একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে এবং ঢাকা-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একজন সহকারী পরিচালক অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
অভিযোগের অন্যতম বিষয় হলো বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধানে একটি শাখার বিরুদ্ধে নির্ধারিত বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে মার্কিন ডলার কেনার তথ্য পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত দর ১০৯ থেকে ১১০ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে থাকলেও ১১৩ থেকে ১২৩ টাকা ৬০ পয়সা পর্যন্ত দামে ডলার কেনার অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রায় ২১১ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে।
দুদকের অভ্যন্তরীন সূত্র জানিয়েছে, পূবালী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তার যোগসাজশে বেশি দামে ডলার কেনার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে পরিষ্কারভাবে প্রমান পাওয়া গেছে, তবে সেই অর্থ এমডি অথবা চেয়ারম্যান আত্মস্বাত করেছেন কিনা তা খতিয়ে দেখতেই তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পূবালী ব্যাংকের এমডি’র সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। চেয়ারম্যান ও এমডি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন না বলে জানান জনসংযোগ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।
এ ছাড়া আমদানি বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারের বাইরে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা। কিছু অর্থ তৃতীয় পক্ষের হিসাবে জমা হওয়ার অভিযোগও রয়েছে, যা অর্থ পাচারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পূবালী ব্যাংকের ঋণ বিতরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পর্যাপ্ত জামানত ছাড়াই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কিছু ঋণের অর্থ অন্য ব্যাংকের দায় পরিশোধে ব্যবহারের অভিযোগও তদন্তে এসেছে।
এদিকে মঞ্জুরুর রহমানের নাম ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগেও আলোচনায় রয়েছে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) করা মামলায় তারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম এবং কোম্পানির তথ্য পরিবর্তন বা মুছে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, গত সপ্তাহে ডেল্টা লাইফের পক্ষ থেকে দুদকের তদন্তের জন্য নির্দিষ্ট করা সব ফাইল জমা দেওয়া হয়েছে। দুদক গত কয়েক মাসে পূবালী ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধান (মহা-ব্যবস্থাপক)সহ বেশ কয়েকজনের শুনানী করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, দুদক বিষয়টি তদন্ত করছে বিধায় এখানে আমাদের মন্তব্য করার কিছু নেই। দুদক যেকোন তথ্য চাইলে আমরা সহযোগিতা করবো।
এ বিষয়ে পূবালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে জনসংযোগ কর্মকর্তা কিছু জানেন না বলে প্রতিবেদককে বলেন।
Posted ৭:১৬ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
9 News Bd | s s