নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে পরিকল্পিতভাবে নির্জন এলাকায় নিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যার পর তার ব্যবহৃত আইফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, গত শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অপ্রতিমকে কুমিল্লার সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা একটি নির্জন বনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার হাতে থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম বাধা দেয়। এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত হলে তুহিন অপ্রতিমের মোবাইল ফোনটি নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলের সঙ্গে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এসপি আনিসুজ্জামান জানান, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই জিডির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তুহিনকে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন হত্যাকাণ্ডে ফাহাদ ও ফাহাদের এক বন্ধুর সম্পৃক্ততার কথা জানায়। এরপর অভিযান চালিয়ে ফাহাদকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ফাহাদকে জিজ্ঞাসাবাদে তার বন্ধু কামরুলের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পরে কামরুলকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ।
পুলিশের দাবি, তুহিনের দেওয়া তথ্য ও তার দেখানো জায়গা অনুযায়ী তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সিয়াম নামের আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা কতটুকু, তা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ রাতদিন কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি তিনজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গত শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। রাত পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় তার বাবা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন।
পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সানন্দা গ্রামের একটি ঝোপ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। তার বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার একজন ব্যবসায়ী। অপ্রতিম কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এ ঘটনায় শনিবার মধ্যরাতে অপ্রতিমের বাবা বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। মামলায় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
দুপুর ১টার দিকে চার দফা দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে অপ্রতিম হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে ৬০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া পুলিশের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে কুমিল্লার পুলিশ সুপার, আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং প্রয়োজনে সাঙ্গিশ্বর পুলিশ ফাঁড়ি কুবির পাশে স্থানান্তরের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
তাদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ, পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও উদ্ধারে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ ইউনিট গঠন।
এদিকে রোববার সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে কোটবাড়ি গন্ধমতী ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বাড়ির পাশের কবরস্থানে অপ্রতিমকে দাফন করা হয়।

Posted ১২:২৯ পিএম | রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
9 News Bd | s s


