শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠ বেড়েছে ৩ সেন্টিমিটার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট

গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠ বেড়েছে ৩ সেন্টিমিটার

গত পাঁচ দশকে গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার বিপুল পরিমাণ বরফ গলে সমুদ্রে মিশেছে। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত ৫০ বছরে দুই মেরু অঞ্চল থেকে মোট ১১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন টন বরফ গলে যাওয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েছে ১ দশমিক ১ ইঞ্চির বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৩ সেন্টিমিটার।

যুক্তরাজ্যের নর্থামব্রিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষক ইনেস ওটোসাকার নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকেরা ১৯৭০-এর দশক থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত স্যাটেলাইটে ধারণ করা তথ্য বিশ্লেষণ করে বরফ গলার এই চিত্র পেয়েছেন।

গবেষণায় বলা হয়েছে, বরফ গলার প্রভাবে গ্রিনল্যান্ড থেকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েছে প্রায় ১ দশমিক ৮ সেন্টিমিটার। আর অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে বেড়েছে আরও ১ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ দুই অঞ্চল মিলিয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়া।

গবেষকদের তথ্যমতে, উষ্ণ মহাসাগরের প্রভাবে হিমবাহ ভেঙে সমুদ্রে গিয়ে গলে যাওয়াই বরফ ক্ষয়ের প্রধান কারণ। মোট বরফ ক্ষয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ এভাবে হয়েছে। অন্যদিকে, মাত্র ১৬ শতাংশ বরফ সরাসরি উপরিভাগের উষ্ণতার কারণে গলেছে।

তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকায় বরফ গলার হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে এ হার দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ করে ২০১০-এর দশকে বরফ ক্ষয়ের মাত্রা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়।

অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে পূর্ব অ্যান্টার্কটিকায় রেকর্ড পরিমাণ তুষারপাতের কারণে সাময়িকভাবে বরফের সামগ্রিক ক্ষয়ের গতি কিছুটা কমেছে। তবে গবেষকেরা বলছেন, এই পরিবর্তনকে দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তির সংকেত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে মেরু অঞ্চলের হিমবাহ ও বরফস্তরের ওপর। বরফ গলার এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সমুদ্রপৃষ্ঠ আরও বাড়তে পারে।

গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বিশ্বের উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে নিচু উপকূলীয় এলাকা, দ্বীপাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও ভূমি ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৮:২৮ এএম | শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
------
Contact

-----------------

ফোন : --------------------

E-mail: -----------------------