নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট
মশা নিধনে ভেজাল কীটনাশকের পরিবর্তে কেরোসিন সরবরাহ, বর্জ্য সংগ্রহে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজিসহ শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সহকারী পরিচালক মেহেদী মুসা জেবিন ও উপসহকারী পরিচালক হাবিবুর রহমানের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযোগ রয়েছে, একটি ঠিকাদারি চক্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নিম্নমানের বা ভেজাল কীটনাশক সরবরাহ করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। ২০১১ ও ২০১৯ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ভেজাল কীটনাশক সরবরাহের অভিযোগে কালো তালিকাভুক্ত ‘দি লিমিট অ্যাগ্রো’-সংশ্লিষ্টরা নতুন নামে ‘ফরোয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল’ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ডিএসসিসিতে কাজ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গত দুই বছরে তিনটি কার্যাদেশের মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৪৮ কোটি টাকার কীটনাশক সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পরীক্ষায় মানসম্মত কীটনাশক দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে ফগিংয়ের সময় কেরোসিন ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে বর্জ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও নিয়মের বাইরে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রতি ফ্ল্যাট থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা নেওয়ার নিয়ম থাকলেও ধানমন্ডি, আজিমপুর, কাঁঠালবাগান, কায়েতটুলী ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় ১২০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকেও নেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পর্যন্ত।
এ ছাড়া দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পাওয়া ঠিকাদারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ ছিনিয়ে নেওয়া এবং বর্জ্য সংগ্রহের নামে কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, এসব অভিযোগের নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম যাচাই করা হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জনসংযোগ কমকর্তা রাসেল রহমানকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তার কোন উত্তর দেননি।
Posted ১২:৪১ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
9 News Bd | s s