নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট

নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ। পরে বাংলাদেশকে বাদ দিয়েই অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বকাপ। দেশের ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই আসরে বাংলাদেশ কেন অংশ নেয়নি, তা অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে প্রধানত দায়ী করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টার সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি বিসিবির ভূমিকাও প্রতিবেদনে পর্যালোচনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তখন দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। ভারতে দল পাঠানোর বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও করেছিলেন অনেকে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেয় বর্তমান যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
এর অংশ হিসেবে গত মার্চে তিন সদস্যের একটি কারণ অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) কে এম অলিউল্ল্যাহকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটির অন্য দুই সদস্য ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন ও আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর।
দীর্ঘ কয়েক মাসের তদন্ত শেষে মঙ্গলবার ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কমিটি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে কমিটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না যাওয়ার জন্য তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দায়ী। একই সঙ্গে সে সময়ের সরকারকেও এ সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী করা হয়েছে।
ফয়সাল দস্তগীর বলেন, ‘তদন্তে যা উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সবকিছু মিলিয়ে যা বলা যায়, যে মানুষটি দায়ী (বিশ্বকাপে না যাওয়ার জন্য), তিনি হলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সেই সময়ের সরকার ও তিনি দায়ী।’
তদন্ত কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, ‘অবশ্যই বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া উচিত ছিল।’
প্রতিবেদন তৈরির সময় কমিটি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য নিয়েছে। এ ছাড়া সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করা হয়েছে। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মধ্যেও কয়েকজনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস এবং টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
এ ছাড়া বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল, বোর্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল হকসহ ওই সময়ে বিসিবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের কয়েকজন প্রতিনিধির সাক্ষাৎকারও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে যাদের বিরুদ্ধে মূলত অভিযোগের বিষয়টি এসেছে, তাদের বক্তব্য নিতে পারেনি তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং সে সময়ের বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ফলে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে চলমান বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল। বিশেষ করে সরকারের সিদ্ধান্ত, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা এবং বিসিবির অবস্থান—এই তিনটি বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া ইভেন্টে বাংলাদেশ কেন শেষ পর্যন্ত খেলেনি, সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যে পর্যবেক্ষণ এসেছে, তা ভবিষ্যতে দেশের ক্রীড়া প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

Posted ১২:৩৬ পিএম | মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
9 News Bd | s s


