ফোকাসবাংলা২৪ ডেস্ক | শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট

কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় উৎপাদন বাড়ানোর পর হঠাৎ কারিগরি ত্রুটিতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। বিশেষ করে গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের ঘাটতি আরও প্রকট হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গত এক মাস ধরে কয়লা সংকটের কারণে সীমিত সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল। তবে কয়লা সরবরাহ বাড়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর কেন্দ্রটির উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়ছিল। একপর্যায়ে রাতে উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়।
কিন্তু রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় গত ৭ আগস্ট থেকে আদানির কেন্দ্রটিতে উৎপাদন কমে যায়। গত মাসের শেষ দিকে কয়লা সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হলে দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। গতকাল রাতে উৎপাদন আরও বেড়ে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি হয়েছিল।
আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কেন্দ্রটির একটি ইউনিটের বয়লারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ত্রুটির কারণে বয়লারটি শীতল হতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি শনাক্ত করে মেরামতের কাজ শুরু করা হবে। ফলে কেন্দ্রটির উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। চাহিদার সময় এই কেন্দ্র থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ডও রয়েছে।
এদিকে আদানির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের ঘাটতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়িয়ে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হলেও তাতে পরিস্থিতি পুরোপুরি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে এবং একই সঙ্গে বাড়ছে লোডশেডিং।
গতকাল বৃহস্পতিবার দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে বেলা তিনটার দিকে। ওই সময় বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট। আজ শুক্রবার ছুটির দিন সকালেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি সংকটের কারণে সেই সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। কয়লা, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের সরবরাহে ঘাটতির কারণে বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়মিত বন্ধ থাকছে। আবার অনেক কেন্দ্র সীমিত সক্ষমতায় উৎপাদন করছে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকটের প্রভাবও দেশের বিদ্যুৎ খাতে পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। এর প্রভাবে কয়লা, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামে চাপ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে।
দেশে বর্তমানে ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও জ্বালানির অভাবে সবগুলো কেন্দ্র থেকে নিয়মিত উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। কোনো কোনো কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে, আবার কিছু কেন্দ্র চলছে সীমিত সক্ষমতায়। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে এবং লোডশেডিং বাড়ছে।
আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিট দ্রুত মেরামত করে উৎপাদনে ফেরানো না গেলে সামনে গরমের সময়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

Posted ৫:৫৫ এএম | শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
9 News Bd | s s


