শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো সংঘাত-সংঘর্ষ চাই না: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঠাকুরগাঁও   |   রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট

ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো সংঘাত-সংঘর্ষ চাই না: রাষ্ট্রপতি

ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো ধরনের সংঘাত-সংঘর্ষ চান না বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মতাদর্শ প্রচার ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর পাশাপাশি সংঘাত এড়িয়ে সহিষ্ণুতার সঙ্গে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে নাগরিক কমিটির আয়োজনে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো সংঘাত, কোনো সংঘর্ষ চাই না। সব রাজনৈতিক দলকে বলব, আপনারা নিজেদের রাজনীতি করবেন, মতবাদ প্রচার করবেন, কিন্তু কখনো সংঘাতে জড়াবেন না।’ গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান বিষয় সহিষ্ণুতা উল্লেখ করে তিনি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে রাজনীতি করার আহ্বান জানান।

ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি নির্ধারণ ও অর্থ পরিশোধের কাজ শেষ হয়েছে এবং শিগগিরই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজও এগিয়ে যাচ্ছে এবং আগামী বছর থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হতে পারে।

তিনি বলেন, ভূল্লী ও রুহিয়াকে পৃথক উপজেলা করার দাবিও বাস্তবায়িত হয়েছে। ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিমানবন্দরকে টেকসই করতে হলে জেলায় শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে।

রাষ্ট্রপতি জানান, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে বিনিয়োগকারীদের ঠাকুরগাঁওয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী ইতোমধ্যে এলাকা পরিদর্শন করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। চীনের সহযোগিতায় শিল্প স্থাপনের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তিনি জানান।

রাজনৈতিক সহনশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে রাজনৈতিক সহিংসতা ও নির্যাতনের কারণে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আর কোনো রক্তপাত ও সংঘাত দেখতে চান না তিনি। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে ঐক্য ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে খেলাধুলার উন্নয়নে স্পোর্টস ভিলেজ ও উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ে মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়, সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ও পীরগঞ্জে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রবাসে কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, মালয়েশিয়ায় প্রায় ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের কর্মীরাও বিনা খরচে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হয়ে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

তরুণদের মাদকবিরোধী আন্দোলনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁওকে মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। ব্যবসায়ীদেরও জেলায় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

নিজের জন্মস্থান ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মনে করবেন না যে আমি আপনাদের কাছ থেকে দূরে চলে গেছি। আমি সব সময় আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, আপনাদের সঙ্গেই থাকব।’

নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা বক্তব্য দেন।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১:৩০ পিএম | রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
------
Contact

-----------------

ফোন : --------------------

E-mail: -----------------------