ফোকাসবাংলা২৪ ডেস্ক | রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট
চিকিৎসা নিতে কলকাতায় যাওয়া বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে শহরটির বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশে প্রতিনিধি দল পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে কয়েকটি হাসপাতাল। রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পাশাপাশি কলকাতায় যাওয়ার আগেই নিরাপদ ও অনুমোদিত হোটেল বা অতিথিশালা খুঁজে দেওয়া এবং কক্ষ বুকিংয়ে সহায়তা করার পরিকল্পনা করছে তারা।
সম্প্রতি কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। ওই ঘটনার পর কলকাতার বিভিন্ন বাজেট হোটেল ও অতিথিশালায় অগ্নিনিরাপত্তা, লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় অনুমোদন যাচাইয়ে অভিযান শুরু করে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বেশ কিছু সস্তা আবাসন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের থাকার সংকট আরও বেড়েছে।
বাংলাদেশের রোগীদের একটি বড় অংশ কলকাতায় চিকিৎসার জন্য সড়কপথে যান। চিকিৎসার ব্যয়ের পাশাপাশি আবাসনের খরচও কম রাখার চেষ্টা করেন তাঁরা। ফলে এতদিন হাসপাতালের কাছাকাছি তুলনামূলক কম খরচের হোটেল, লজ কিংবা অতিথিশালায় থাকার প্রবণতা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক অভিযানে এসব আবাসনের অনেকগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিরাপদ ও সাশ্রয়ী থাকার জায়গা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশের কলকাতা মিশনও ভ্রমণকারীদের আগেভাগে আবাসন নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে। যাত্রার আগে হোটেলটি চালু আছে কি না এবং প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমোদন রয়েছে কি না, তা যাচাই করে বুকিং করার কথা বলা হয়েছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে রোগীদের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা চিকিৎসা ভ্রমণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কলকাতার বিপি পোদ্দার হাসপাতাল আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। দলটি সম্ভাব্য রোগী ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করবে এবং কলকাতায় চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে পরামর্শ দেবে। একই সঙ্গে রোগীদের থাকার জন্য হাসপাতালের আশপাশের নিরাপদ হোটেল ও অতিথিশালার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
হাসপাতালের গ্রুপ উপদেষ্টা সুপ্রিয় চক্রবর্তী জানিয়েছেন, রোগীদের চিকিৎসার পুরো যাত্রাকে আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত করতে হাসপাতালের কাছাকাছি আবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে হাসপাতালের পাশে নিজস্ব আবাসন চালুর প্রস্তুতিও চলছে।
রুবি জেনারেল হাসপাতালও বাংলাদেশি রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। হাসপাতালটির পক্ষ থেকে রোগীদের জন্য বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের আশপাশের নিরাপদ আবাসনের তালিকা তৈরি করে রোগীদের আগেই কক্ষ বুক করতে সহযোগিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কলকাতার হাসপাতালগুলোর এই উদ্যোগের পেছনে শুধু আবাসন সংকট নয়, বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি রোগীরা কলকাতার চিকিৎসাব্যবস্থার অন্যতম বড় বিদেশি রোগী গোষ্ঠী। তাঁদের একটি বড় অংশ দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার জন্য কলকাতার হাসপাতালগুলোতে যান।
ফলে কলকাতার হাসপাতালগুলো এখন শুধু চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মধ্যেই নিজেদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ রাখছে না; রোগীদের যাত্রা, থাকার ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তাকেও চিকিৎসাসেবার অংশ হিসেবে দেখছে। বাংলাদেশি রোগীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হাসপাতালের পক্ষ থেকে নিরাপদ আবাসন, আগাম কক্ষ বুকিং এবং সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
Posted ১২:৪২ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
9 News Bd | s s