ফোকাসবাংলা২৪ ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট

ফুটবলের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় কে—লিওনেল মেসি নাকি অন্য কেউ, এই বিতর্ক বহু বছর ধরে ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার অন্যতম বিষয়। এবার সেই বিতর্কে সরাসরি কোনো বক্তব্য না দিয়েও যেন নিজের সাফল্যের খতিয়ান সামনে রেখে জবাব দিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সাম্প্রতিক একটি অভিনব পোস্ট প্রকাশের পর থেকেই তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
মেসির পোস্টটি ছিল প্রচলিত ধরন থেকে একেবারেই আলাদা। কোনো দীর্ঘ বক্তব্য নয়, বরং রেস্তোরাঁর বিল কিংবা কেনাকাটার রসিদের আদলে সাজানো হয়েছে তার আর্জেন্টিনা ক্যারিয়ারের অর্জন ও পরিসংখ্যান। সেখানে গোল, অ্যাসিস্ট, মাঠে কাটানো সময় এবং জাতীয় দলের হয়ে জেতা বিভিন্ন শিরোপাকে একের পর এক ‘আইটেম’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
একটি নতুন ব্র্যান্ড প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রকাশিত এই সৃজনশীল পোস্টে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দীর্ঘ পথচলাকে প্রতীকী একটি ‘রসিদে’ তুলে ধরা হয়েছে। ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান ও সাফল্যগুলো সাজানোর পর শেষদিকে রয়েছে সবচেয়ে আলোচিত শব্দ—‘গোট’। অর্থাৎ, সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়ের বিতর্কে মেসির অবস্থানকে ইঙ্গিত করেই যেন শেষ কথাটি বলে দেওয়া হয়েছে।
পোস্টটিতে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির বড় অর্জনগুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, অলিম্পিক স্বর্ণপদক ও ফিনালিসিমার মতো আন্তর্জাতিক সাফল্যের পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে তার দীর্ঘ যাত্রার নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। কোটি কোটি ভক্তকে অনুপ্রাণিত করার বিষয়টিও রাখা হয়েছে সেই প্রতীকী হিসাবের অংশ হিসেবে।
মেসির এমন পোস্টের সময়টিও আলোচনায় এসেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের পর তার জাতীয় দলের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার নিয়ে যখন নতুন করে আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময়েই নিজের অর্জনকে এমন ব্যতিক্রমী উপায়ে তুলে ধরলেন তিনি।
তবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির পথচলা কখনোই সহজ ছিল না। ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময় তাকে সমালোচনা এবং হতাশার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে পরাজয় ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় আক্ষেপ। এর পর ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালেও শিরোপা জিততে ব্যর্থ হয় আর্জেন্টিনা।
২০১৬ সালে চিলির কাছে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আবার জাতীয় দলে ফেরেন তিনি। সেই প্রত্যাবর্তনের পরই যেন বদলে যায় আর্জেন্টিনার গল্প।
২০২১ সালে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। দীর্ঘ ২৮ বছরের আন্তর্জাতিক শিরোপার অপেক্ষার অবসান ঘটে। মেসির হাতেও ওঠে জাতীয় দলের হয়ে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি।
এর পর আসে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ। ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালটি ৩-৩ সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে দুটি গোল করেন মেসি এবং টাইব্রেকারেও সফলভাবে নিজের শট জালে পাঠান। ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পায় মেসির দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।
বিশ্বকাপ জয়ের পরও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখে আর্জেন্টিনা। ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে দলটি আরও একটি বড় আন্তর্জাতিক সাফল্য অর্জন করে। ফলে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা ও অলিম্পিক স্বর্ণপদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্জন মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অংশ হয়ে যায়।
বিশ্বকাপেও মেসির দীর্ঘ উপস্থিতি তাকে ইতিহাসের বিশেষ জায়গায় নিয়ে গেছে। ২০০৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। টুর্নামেন্টের মঞ্চে গোল ও ম্যাচ খেলার দিক থেকেও তিনি অন্যতম সফল খেলোয়াড়। তবে সর্বকালের সেরা নিয়ে বিতর্কে শুধু পরিসংখ্যান নয়, শিরোপা, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, ধারাবাহিকতা এবং দলের ওপর প্রভাব—সবকিছুই বিবেচনায় নেওয়া হয়।
আর সেখানেই মেসির সাম্প্রতিক ‘রসিদ’ পোস্ট নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি সরাসরি নিজেকে সর্বকালের সেরা বলে দাবি না করলেও নিজের অর্জনের তালিকা সামনে রেখে ভক্তদের যেন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগই দিয়েছেন।
ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন নতুন করে প্রশ্ন—‘গোট’ বিতর্কের উত্তর কি মেসি নিজেই দিয়ে দিলেন? সমর্থকদের কাছে উত্তরটি স্পষ্ট হলেও ফুটবলবিশ্বে এই বিতর্ক যে সহজে শেষ হচ্ছে না, তা বলাই যায়।

Posted ১:৫৬ পিএম | বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
9 News Bd | s s


