নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট

গত তিন বছরে দেশে চার শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, তৈরি পোশাক খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বাজার পরিস্থিতি এবং ব্যবসায়িক নানা সংকটের কারণে এসব কারখানা বন্ধ হয়েছে। দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে এর প্রভাব পড়লেও নতুন বিনিয়োগ ও রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে খাতটিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সংসদে দেওয়া তথ্যে মন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। ফলে কারখানা বন্ধ হওয়ার বিষয়টি শুধু উদ্যোক্তা পর্যায়েই নয়, শ্রমবাজার ও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।
বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, কাঁচামালের দাম, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদার পরিবর্তন—সব মিলিয়ে পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তাদের ওপর চাপ বেড়েছে। এর সঙ্গে ব্যাংকঋণ, সুদের হার ও ব্যবসা পরিচালনার অন্যান্য ব্যয়ও অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে তৈরি পোশাক খাতকে টেকসই রাখতে সরকার বিভিন্ন ধরনের নীতি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বলে সংসদে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। নতুন বাজার অনুসন্ধান, পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদন এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পোশাক কারখানা বন্ধের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে একদিকে যেমন বিনিয়োগের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থানও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর কারণ চিহ্নিত করে টেকসই সমাধান এবং সক্ষম কারখানাগুলোকে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দেওয়ার দাবি রয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাকের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে শিল্পটির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গে টিকে থাকতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ শ্রমিক তৈরি এবং নতুন বাজারে প্রবেশের উদ্যোগ জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।

Posted ১২:০৭ পিএম | বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
9 News Bd | s s


