আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২৪৭ জন। কয়েক দিন ধরে উদ্ধার অভিযান চললেও দুর্গম এলাকা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে চিতওয়ান জেলায়। সেখানে ২৭২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নাওয়ালপারাসি পূর্বে ২০৭টি এবং নাওয়ালপারাসি পশ্চিমে ১৫১টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। গোরখা জেলায় উদ্ধার করা হয়েছে আরও ৬২টি মরদেহ।
বন্যায় অন্তত ২৬৭ জন আহত হয়েছেন। এ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে দেশটির পুলিশ, সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২০ হাজারের বেশি সদস্য কাজ করছেন। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধার। কয়েকটি প্রকল্পের সুড়ঙ্গে শত শত শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের হিসাবে প্রায় ৯৩৩ জন শ্রমিকের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৩০০ শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধারকাজে ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ দলও সহায়তা করছে। ধসে পড়া মাটি, পাথর ও পানিতে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভেতরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তবে নতুন করে বৃষ্টি ও নদীর পানি বাড়ায় কোথাও কোথাও উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে বন্যায় নেপালের পাশাপাশি চীনের তিব্বত অঞ্চলও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিব্বতে প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে হিমালয় অঞ্চলের এই দুর্যোগে সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপাল সরকার জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের শনাক্ত ও উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ধ্বংসপ্রাপ্ত সড়ক ও সেতু এবং নতুন করে বন্যার আশঙ্কার কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Posted ১১:৪১ এএম | সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
9 News Bd | s s


