রবিবার ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

‘মিস ইউনিভার্স’ থেকে বলিউড, নেহার পথচলায় আলো-অন্ধকার

বিনোদন ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট

‘মিস ইউনিভার্স’ থেকে বলিউড, নেহার পথচলায় আলো-অন্ধকার

সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে যখন মাথায় উঠেছিল মুকুট, তখন বয়স মাত্র ২১। সেদিনের সেই তরুণী হয়তো জানতেন না, একটি মুকুট তাঁকে আলোয় নিয়ে আসবে ঠিকই, কিন্তু সেই আলোয় টিকে থাকার লড়াই হবে আরও কঠিন। নেহা ধুপিয়ার ক্যারিয়ারের গল্প তাই শুধু সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার বিজয়ী থেকে বলিউডে পা রাখার গল্প নয়; বরং বারবার নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার ও তৈরি করার গল্প।

আজ ২৭ আগস্ট নেহা ধুপিয়ার জন্মদিন। ১৯৮০ সালের এই দিনে ভারতের কোচিতে জন্ম তাঁর। বাবা ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্মকর্তা হওয়ায় শৈশব কেটেছে শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশে। পরে দিল্লির জেসাস অ্যান্ড মেরি কলেজে ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করেন। অভিনয় ও মডেলিংয়ে আসার আগে ছোট পর্দা ও মঞ্চে কাজ করেছেন। শিশুশিল্পী হিসেবেও মালয়ালম ছবি ‘মিন্নারাম’-এ দেখা গিয়েছিল তাঁকে।

২০০২ সালে ভারতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ফেমিনা মিস ইন্ডিয়ায় অংশ নেন নেহা। ২৬ প্রতিযোগীর মধ্য থেকে তিনি জিতে নেন ‘মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্স’ খেতাব। একই প্রতিযোগিতায় শ্রুতি শর্মা পান মিস ইন্ডিয়া ওয়ার্ল্ড এবং রেশমি ঘোষ পান মিস ইন্ডিয়া আর্থের মুকুট।

তবে শুধু সৌন্দর্য নয়, প্রশ্নোত্তর পর্বেও নজর কেড়েছিলেন নেহা। ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার সময় তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল সীমান্তের বিভাজন নিয়ে। উত্তরে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সীমান্তের বিভাজন ভুলে মানুষ হিসেবে কেন শান্তিতে বসবাস করা যাবে না। তাঁর এই বক্তব্যও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।

এরপর মিস ইউনিভার্স ২০০২ প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন নেহা। সেবার সেরা দশে জায়গা করে নেন তিনি। মুকুট জয়ের পর রাতারাতি পরিচিত মুখ হয়ে উঠলেও সামনে তখন আরও বড় পরীক্ষা—বলিউড।

২০০৩ সালে ‘কায়ামত: সিটি আন্ডার থ্রেট’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় নেহার। তবে ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় পরের বছর ‘জুলি’ ছবিতে অভিনয়ের পর। সাহসী চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর নামের সঙ্গে জুড়ে যায় ‘সেক্স সিম্বল’ তকমা।

সমস্যা হলো, যে পরিচিতি তাঁকে জনপ্রিয় করে তুলেছিল, সেটিই পরবর্তী সময়ে তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য একধরনের সীমাবদ্ধতা হয়ে দাঁড়ায়।

নেহা বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, ‘জুলি’র পর তাঁকে নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্রে আটকে ফেলা হয়েছিল। ২০২৬ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ছবিটির পোস্টার ও প্রচারণার কারণে দর্শকের কাছে তাঁকে ‘সেক্স সিম্বল’ হিসেবে দেখা শুরু হয়। অথচ তিনি চেয়েছিলেন ভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে। ‘ক্যা কুল হ্যায় হাম’-এর মতো ছবিতে কাজ করার সিদ্ধান্তও পরবর্তী সময়ে তাঁর ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলেছিল বলে মনে করেন তিনি।

অর্থাৎ ‘জুলি’ তাঁকে পরিচিতি দিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে তৈরি করেছিল টাইপকাস্টের বাধা। সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে ধীরে ধীরে ভিন্ন ধরনের চরিত্র ও ছবির দিকে মনোযোগ দেন নেহা।

বলিউডে নেহার শুরুর দিকের ক্যারিয়ার ছিল অনেকটাই গ্ল্যামারনির্ভর। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তিনি সেই পরিচয়ের বাইরে বেরিয়ে আসতে চেয়েছেন।

‘এক চাল্লিশ কি লাস্ট লোকাল’, ‘মিথ্যা’, ‘দাসবিদানিয়া’, ‘ফাস গয়ে রে ওবামা’র মতো ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। বড় বাজেটের মূলধারার ছবির পাশাপাশি বেছে নেন তুলনামূলক ছোট ও বিষয়নির্ভর সিনেমাও।

২০১৭ সালে ‘হিন্দি মিডিয়াম’, ‘ক্যারিব ক্যারিব সিঙ্গেল’ এবং ‘তুমহারি সুলু’র মতো ছবিতে কাজ করে অভিনয়ের জায়গায় আবারও নিজের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ পান। বিশেষ করে ‘তুমহারি সুলু’ তাঁর ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হয়ে আসে। বিদ্যা বালানের সঙ্গে অভিনয় করে প্রশংসা পান তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পর ছবিটি তাঁকে অভিনয়ের জন্য নতুন করে স্বীকৃতি এনে দেয়।

নেহা একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে পাওয়া ‘সেক্সি’ তকমাটি তিনি পছন্দ করতেন না। সেই পরিচয় থেকে বেরিয়ে আসতেই ভিন্ন ধরনের চরিত্র বেছে নিতে শুরু করেন।

নেহার ক্যারিয়ারকে বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, একটা সময় তিনি বলিউড থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। বাস্তবে পুরোপুরি থামেননি তিনি। বরং বদলে ফেলেছেন কাজের ধরন ও ক্ষেত্র।

২০১৭ সালে এক সাক্ষাৎকারে নেহা বলেছিলেন, কাজ না থাকলে ঘরে বসে থাকার মানুষ তিনি নন। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি টেলিভিশন, রিয়েলিটি শো, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও ডিজিটাল কনটেন্ট—বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। তাঁর দর্শন ছিল, কাজ না থাকলে নিজের কাজ নিজেকেই তৈরি করতে হবে।

এই ভাবনা থেকেই তাঁর ক্যারিয়ারে আসে ‘নো ফিল্টার নেহা’। পডকাস্ট ও চ্যাট শোর মাধ্যমে অভিনয়ের বাইরে নতুন পরিচিতি তৈরি করেন তিনি। সেখানে তাঁর সরাসরি ও স্পষ্টভাষী কথাবার্তাও দর্শকের দৃষ্টি কাড়ে।

২০১৮ সালে অভিনেতা অঙ্গদ বেদির সঙ্গে বিয়ে হয় নেহার। একই বছর তাঁদের কন্যা মেহরের জন্ম। এরপর তাঁর জীবনে আসে আরেক বাস্তবতা—মাতৃত্বের পর একজন অভিনেত্রীর কাজের জগতে ফিরে আসার চ্যালেঞ্জ।

তবু নেহার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এখানেই—আলো কমেছে, বিতর্ক এসেছে, কাজের ধরন বদলেছে; কিন্তু থেমে যাননি তিনি। সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে বলিউড, সেখান থেকে সঞ্চালনা ও ডিজিটাল জগৎ—প্রতিটি পর্যায়েই নতুন করে নিজেকে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন নেহা ধুপিয়া।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
শুভ শাহরিয়ার
Contact

-----------------

ফোন : --------------------

E-mail: -----------------------