রবিবার ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

নেপালে ঝরে গেল শতাধিক প্রাণ, কেউ বুঝতেই পারেনি তৈরি হচ্ছিল মৃত্যুফাঁদ

ফোকাসবাংলা২৪ ডেস্ক   |   বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট

নেপালে ঝরে গেল শতাধিক প্রাণ, কেউ বুঝতেই পারেনি তৈরি হচ্ছিল মৃত্যুফাঁদ

নেপালের উত্তরাঞ্চলে হঠাৎ নেমে আসা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তিব্বত সীমান্তবর্তী রসুয়া জেলার ভোতে কোশী নদীতে আচমকা পানির ঢল নেমে আসার পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিস্তীর্ণ এলাকা তছনছ হয়ে যায়। ঘরবাড়ি, সেতু, সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা পানির স্রোতে ভেসে যায়।

প্রাথমিকভাবে এটিকে সাধারণ পাহাড়ি ঢল মনে হলেও পরে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, চীনের তিব্বত অংশে হিমবাহ, বরফ ও পাথরের বিশাল অংশ ধসে পড়ার পর আকস্মিকভাবে বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ নদীতে নেমে আসার কারণেই এই বিপর্যয় ঘটে।

বুধবারের এই বিপর্যয়ে নেপালে অন্তত ৯৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের হিসাবে, নিখোঁজদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিকসহ মোট ৩৮৪ জন পর্যটক ও যাত্রী রয়েছেন।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, বিপর্যয়ের আগে বড় ধরনের কোনো সতর্কবার্তা পাওয়ার সুযোগই ছিল না অনেক মানুষের। ভোতে কোশী নদীতে পানির স্তর অত্যন্ত দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা, নিরাপত্তাকর্মী, পর্যটক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা অনেকটা আকস্মিকভাবেই স্রোতের মুখে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, মুহূর্তের মধ্যে পানি ও কাদার প্রবল স্রোত চারপাশ গ্রাস করতে শুরু করে।

ধারণা করা হচ্ছে, তিব্বতের দিক থেকে নেমে আসা পানি ও ধ্বংসাবশেষের ঢেউ নদীর পানি অস্বাভাবিক দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। কিছু এলাকায় মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে পানির উচ্চতা কয়েক মিটার বেড়ে যায়। এর সঙ্গে পাহাড়ি ঢাল থেকে নেমে আসা পাথর, কাদা ও বরফ মিশে স্রোতকে আরও ভয়ংকর করে তোলে।

এই ঘটনায় নেপালের বেশ কয়েকটি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উদ্ধারকাজেও বাধা সৃষ্টি হচ্ছে পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, কাদামাটি ও অব্যাহত ঝুঁকির কারণে। নেপাল সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন।

নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক থাকায় বিপর্যয়টি আন্তর্জাতিক উদ্বেগও তৈরি করেছে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়া, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের দুর্যোগের পুনরাবৃত্তিও দেখা যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমবাহের বরফ গলার গতি বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে এমন আকস্মিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা আরও বাড়তে পারে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—এমন একটি ভয়াবহ মৃত্যুফাঁদ তৈরি হচ্ছিল, অথচ কেন আগাম সতর্কতা পৌঁছানো গেল না? উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজাই নেপালের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৬:০৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
শুভ শাহরিয়ার
Contact

-----------------

ফোন : --------------------

E-mail: -----------------------