| শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট
বাংলাদেশ ও চীনের উদ্যোক্তাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং চীনের তিনটি শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনের মধ্যে সহযোগিতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল, ২০২৬) চীনের গুয়াংডং প্রদেশে এই স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। স্বাক্ষরকারী চীনা চেম্বারগুলো হলো—গুয়াংডং চেম্বার অব কমার্স অব ইমপোর্টার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স, চায়না চেম্বার অব কমার্স ফর ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অব মেশিনারি অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স প্রডাক্টস এবং গুয়াংজু চেম্বার অব কমার্স ফর আউটবাউন্ড বিজনেস।
ডিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে সংগঠনটির ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী এবং চীনের সংশ্লিষ্ট চেম্বারগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধিরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই সহযোগিতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে একই দিনে চীনের ক্যান্টন ফেয়ার সেন্টারে অনুষ্ঠিত ১৩৯তম ক্যান্টন ফেয়ারের আওতায় আয়োজিত ‘ট্রেড ব্রিজ বাংলাদেশ ম্যাচমেকিং ইভেন্ট’-এ অংশ নেয় ডিসিসিআই প্রতিনিধি দল। সেখানে প্রায় ২৭০টি চীনা কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসায়িক তথ্য আদান-প্রদান ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী বলেন, চীন বর্তমানে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি এবং বাংলাদেশের আমদানির একটি বড় অংশ আসে দেশটি থেকে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে চীন পঞ্চম বৃহত্তম বৈদেশিক বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবে অবস্থান করছে এবং ইতোমধ্যে বিভিন্ন খাতে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোটিভ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, সেমিকন্ডাক্টরসহ উচ্চ প্রযুক্তি শিল্পে দুই দেশের সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বিশেষভাবে স্টার্টআপ, ফিনটেক, এগ্রি-টেক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, বায়োটেকনোলজি, স্বাস্থ্যসেবা, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যদিকে, চীনের সিসিপিআইটি’র একজন পরিচালক বলেন, গুয়াংডংয়ের নানশা অঞ্চল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে এবং ২০২৫ সালে এর আঞ্চলিক জিডিপি ২৪০ বিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়েছে। তিনি অটোমোবাইল, জাহাজ নির্মাণ ও বায়োমেডিসিন খাতে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগের কথা উল্লেখ করেন।
গুয়াংডং চেম্বারের সভাপতি উ শাওওয়েই বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করা প্রয়োজন।
চায়না চেম্বার অব কমার্স ফর ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অব মেশিনারি অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স প্রডাক্টসের সহ-সভাপতি শি ইয়ংহং বলেন, ক্যান্টন ফেয়ার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। এটি বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের চীনের উৎপাদন শিল্পের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।
সব মিলিয়ে এই সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষর এবং ব্যবসায়িক বৈঠক দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতার দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Posted ১২:১০ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
9 News Bd | s s