জয়পুরহাট প্রতিনিধি | রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীর দোকান ও বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার কৃষ্ণকোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রোববার দুপুরে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ব্যবসায়ী আল আমিন।
অভিযোগে আল আমিন দাবি করেন, হামলাকারীরা তাঁর বাড়ি ও দোকান থেকে নগদ টাকা ও বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছে। এতে প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং ৭ লাখ টাকা লুট হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তবে আল আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও দোকানের যন্ত্রাংশ মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন রেজা জানান, শনিবার রাতে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চোরাই ইজিবাইকের যন্ত্রাংশ কেনাবেচার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একদল লোক জড়ো হয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুড়াপুকুর-বিষ্ণপুর গ্রামের সাগর হোসেনের ইজিবাইক গত ৯ আগস্ট রাতে চুরি হয়। পরে তিনি থানায় অভিযোগ করেন। শুক্রবার রাতে বুড়াপুকুর এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার সময় তিনজনকে স্থানীয় লোকজন আটক করেন। তাঁদের একজনকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে।
পরদিন শনিবার শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে সালিস বসে। সেখানে আটক ব্যক্তিরা ইজিবাইক চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং ইজিবাইকটি কৃষ্ণকোলা গ্রামের একটি দোকানে বিক্রি করেছেন বলে জানান। সালিসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরে রাজুর নেতৃত্বে আটক ব্যক্তিদের কৃষ্ণকোলা গ্রামের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে নেওয়া হয়। সেখানে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কয়েক শ মানুষ জড়ো হন। একপর্যায়ে দোকান ও পাশের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী আল আমিন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাঁদের ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান।
আল আমিনের দাবি, প্রায় এক মাস আগে চারদীঘি গ্রামের রাজু পিকনিকে যাওয়ার কথা বলে তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। তবে রাজু এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রাজুর দাবি, আটক ব্যক্তিরা ইজিবাইক চুরির কথা স্বীকার করায় তিনি তাঁদের নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ওই দোকানে গিয়েছিলেন। সেখানে কোনো হামলা, ভাঙচুর বা লুটপাট হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে আল আমিন ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে চোরাই ইজিবাইক ও যন্ত্রাংশ কেনাবেচার অভিযোগ তোলেন রাজু।
অন্যদিকে আল আমিন এ অভিযোগও অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে ব্যবসা করছেন এবং কোনো চোরাই ইজিবাইক বা যন্ত্রাংশ কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত নন।

Posted ১১:১৮ এএম | রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
9 News Bd | s s


