রবিবার ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

হাম পরিস্থিতিকে ‘মহামারি’ ঘোষণা ও জরুরি পদক্ষেপের দাবি ডিপিপিএইচের

  |   শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট

হাম পরিস্থিতিকে ‘মহামারি’ ঘোষণা ও জরুরি পদক্ষেপের দাবি ডিপিপিএইচের

দেশে চলমান হামের বিস্তারকে ‘মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে দ্রুত জরুরি জনস্বাস্থ্য পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ (ডিপিপিএইচ)। তাদের মতে, পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সাধারণ ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, বরং সমন্বিত ও জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘হামে শিশুমৃত্যু: জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, কোনো রোগ যখন দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা তা সামাল দিতে হিমশিম খায়, তখন সেটিকে জনস্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে ঘোষণা করা প্রয়োজন। বর্তমান হামের বিস্তার সেই সীমা অতিক্রম করেছে বলে তারা মনে করেন। তাই সরকারের প্রতি অবিলম্বে জরুরি ঘোষণা ও সমন্বিত জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, সরকার ইতোমধ্যে চিকিৎসকদের ছুটি বাতিলসহ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরিস্থিতিকে জরুরি হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি, যা দ্রুত করা প্রয়োজন।

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর সাবেক পরিচালক ডা. আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। টিকা দেওয়ার পর কার্যকারিতা পেতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে, তাই দ্রুত বিস্তার রোধে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, আগে যেখানে প্রতি হাজার আক্রান্তে তিনজন শিশুর মৃত্যু হতো, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ১০ জনে দাঁড়িয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)-এর সাবেক সভাপতি ডা. রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবারের শিশুরা। শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. কাজী রকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, টিকাদান কর্মসূচি থাকলেও পরবর্তী জটিলতা মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সংগঠনটি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি জরুরি সুপারিশ তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে দেশব্যাপী জরুরি ভিত্তিতে গণটিকাদান কর্মসূচি চালু, উপজেলা পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় হাসপাতাল পর্যন্ত দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার, টিকা নিয়ে বিভ্রান্তি ও গুজব প্রতিরোধে ব্যাপক জনসচেতনতা কার্যক্রম, এবং শক্তিশালী রোগ নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

তারা আরও বলেন, পুষ্টি ও ভিটামিন-এ কার্যক্রম জোরদার করা, অপুষ্ট শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং মাতৃদুগ্ধপান উৎসাহিত করা জরুরি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধি, টিকা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং স্বাস্থ্যসেবাকে সাংবিধানিকভাবে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন বিভাগে নির্মিত শিশু হাসপাতালগুলো দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর ওপরও গুরুত্বারোপ করে। তাদের মতে, এসব হাসপাতাল কার্যকরভাবে চালু হলে শিশু স্বাস্থ্যসেবার চাপ অনেকটাই কমে আসবে।

সব মিলিয়ে ডিপিপিএইচ মনে করছে, বর্তমান হামের পরিস্থিতি সাধারণ পর্যায়ের নয়; বরং এটি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট, যা দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
------
Contact

-----------------

ফোন : --------------------

E-mail: -----------------------