ফোকাসবাংলা২৪ ডেস্ক | শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট
২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসিকে লক্ষ্য করে একাধিক গুরুতর হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ফাঁস হওয়া একটি নিরাপত্তা নথিতে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মেসিকে লক্ষ্য করে হুমকির মধ্যে বোমা হামলার হুমকিও ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার তদন্তে এসব হুমকি নথিভুক্ত করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নথিতে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনা ও জর্ডানের ম্যাচের আগে ডালাস বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি ফোন করে স্টেডিয়ামে হামলার হুমকি দেন। ওই ব্যক্তি নিজে এবং আরও দুজন স্টেডিয়ামে ঢুকে হামলা চালাবে বলে দাবি করেছিলেন। হুমকির সময় মেসির নামও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এরপর আর্জেন্টিনা ও মিসরের ম্যাচকে ঘিরেও মেসিকে লক্ষ্য করে আরও একটি হুমকি আসে। ফাঁস হওয়া নথি সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যক্তি স্টেডিয়ামে ঢুকে মেসিকে হত্যা করার হুমকি দিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি যাচাইয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হয়।
শুধু মেসি নন, বিশ্বকাপের সময় আরও কয়েকজন তারকা খেলোয়াড়, রেফারি ও কর্মকর্তাও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছিলেন। পর্তুগালের তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা এবং তার হোটেলে এক ব্যক্তির অনুপ্রবেশের ঘটনাও নথিতে উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি পরে রোনালদোর সঙ্গে ছবি তুলতে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন।
এ ছাড়া আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের দায়িত্ব পালনকারী ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েকে ঘিরেও ব্যাপক অনলাইন হুমকির কথা প্রকাশিত হয়েছে। ম্যাচের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ দর্শকদের কাছ থেকে তিনি হাজার হাজার হুমকিমূলক বার্তা পেয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিডিও সহকারী রেফারিকেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
বিশ্বকাপের মতো বৃহৎ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজক দেশগুলোর পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ফাঁস হওয়া নথিতে উঠে আসা ঘটনাগুলো সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার আড়ালে থাকা সম্ভাব্য ঝুঁকির মাত্রাও সামনে এনেছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে মেসিকে লক্ষ্য করে এসব হুমকি বাস্তবে হামলায় রূপ নেয়নি। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো হুমকিগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ায় বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো নিরাপত্তার মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে নথিটিকে মার্কিন পুলিশের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নথি হিসেবে বর্ণনা করা হলেও, এর সত্যতা ও নথিটির পূর্ণাঙ্গ উৎস সম্পর্কে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাইয়ের তথ্য এখনো সীমিত। ফলে মেসিকে লক্ষ্য করে কথিত হামলার পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে নয়, বরং ফাঁস হওয়া নথি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের দাবি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Posted ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬
9 News Bd | s s