নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। তবে নির্বাচনের তফসিল বা ভোটগ্রহণের দিনক্ষণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের পর যথাসময়ে এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও তাহমিদা আহমদ ছাড়াও সংসদ সচিব এবং সংসদ সচিবালয়ের সচিব উপস্থিত ছিলেন।
সিইসি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের আগে স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করা বাধ্যতামূলক। সেই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক হয়নি। বিষয়টি কমিশন সভায় বিবেচনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
তিনি আরও জানান, জাতীয় সংসদ অধিবেশনে থাকলে নির্বাচন আয়োজনের একটি নির্ধারিত পদ্ধতি রয়েছে। আর অধিবেশন না থাকলে আইন অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলেও জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা সংসদ সচিবালয় থেকে সরবরাহ করা হবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় চিঠিও পাঠিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময়ে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করে।
সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুসারে পরিচালিত হবে। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে সেখানে মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ভোটগ্রহণের সময়সূচি উল্লেখ থাকবে। এসব কার্যক্রম সিইসির কার্যালয়ে সম্পন্ন হবে, আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে।
আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হিসেবে থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রার্থীর নিজস্ব সম্মতিসূচক স্বাক্ষরও আবশ্যক।
সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
অন্যদিকে, সংসদের অধিবেশন চলমান না থাকলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনে স্পিকার আইন অনুযায়ী কমপক্ষে সাত দিন আগে সংসদের বৈঠক আহ্বান করতে পারবেন।

Posted ৭:৪৯ এএম | মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
9 News Bd | s s


