নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট
হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে গত সাড়ে চার মাসে দেশটিতে এই রোগে বা হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২৫ জনে। একই সময়ে হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানের ঘাটতি, অপুষ্টি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার সীমিত প্রাপ্যতার কারণে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে বেশ কয়েকজন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশ আগে হাম প্রতিরোধী টিকার পূর্ণ ডোজ পায়নি।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকায় তাদের মধ্যে মৃত্যুঝুঁকিও অনেক বেশি।
বিশেষজ্ঞরা জানান, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। জ্বর, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি এর প্রধান উপসর্গ। সময়মতো চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া কিংবা মস্তিষ্কে সংক্রমণের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্যসেবা সংস্থাগুলো বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে গণটিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ, আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং পুষ্টিসহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি দুর্গম এলাকাগুলোতে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা না গেলে আগামী মাসগুলোতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাই শিশুদের জীবন রক্ষায় দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
Posted ১১:২০ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
9 News Bd | s s