নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট

দেশের অন্যতম বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক পূবালী ব্যাংক রাজধানীর তেজগাঁও-গুলশান লিংক রোডে অবস্থিত নির্মাণাধীন ২৬ তলা বাণিজ্যিক ভবন ‘সুইস টাওয়ার’ কিনে নতুন করপোরেট প্রধান কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জমিসহ ভবনটি অধিগ্রহণে ব্যাংকটির ব্যয় হবে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পরই এ লেনদেন কার্যকর হবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য অনুযায়ী, পূবালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সম্প্রতি এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। প্রস্তাবিত ব্যয়ের মধ্যে আয়কর অন্তর্ভুক্ত থাকলেও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অন্তর্ভুক্ত নয়।
ব্যাংকটির নতুন প্রধান কার্যালয়ের জন্য নির্বাচিত ভবনটি রাজধানীর তেজগাঁও লিংক রোডে, হাতিরঝিল ও গুলশান-১ প্রবেশপথের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত। তিনটি বেজমেন্টসহ ২৬ তলা ভবনটির নির্মাণকাজ অনেকাংশে সম্পন্ন হয়েছে। ভবনটি মূলত আন্তর্জাতিক পাঁচতারকা হোটেল ‘সুইসটেল’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল। এ প্রকল্পে ৩৫০টি কক্ষ, একাধিক রেস্তোরাঁ, বলরুম, সম্মেলনকক্ষ, সুইমিং পুল ও স্পাসহ আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটির কাজ স্থবির থাকায় শেষ পর্যন্ত ভবনটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ‘সুইস টাওয়ার’ প্রকল্পটির উদ্যোক্তা ছিল বেঙ্গল গ্রুপ। বিভিন্ন আর্থিক ও ব্যবসায়িক জটিলতার কারণে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক হোটেল হিসেবে চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ভবনটি কিনে সেখানে নিজস্ব করপোরেট প্রধান কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূবালী ব্যাংক।
বর্তমানে পূবালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ঢাকার দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত। তবে ব্যাংকিং খাতের সম্প্রসারণ, আধুনিক কর্মপরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক প্রয়োজন বিবেচনায় বৃহৎ পরিসরের নিজস্ব করপোরেট সদর দপ্তর গড়ে তোলার পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরেই ছিল। নতুন ভবনটি অধিগ্রহণের মাধ্যমে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে বড় পদক্ষেপ নিল ব্যাংকটি।
ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের কয়েকটি বড় বেসরকারি ব্যাংক নিজস্ব করপোরেট সদর দপ্তর নির্মাণ বা অধিগ্রহণে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত করা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, গ্রাহকসেবা উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধাও তৈরি হয়।
তবে ৮০০ কোটি টাকার এ বিনিয়োগ নিয়ে বাজারে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এত বড় অঙ্কের স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকটির মূলধন, তারল্য এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে। অন্যদিকে, ব্যাংকটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় সব নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্ত ক্রয় সম্পন্ন হবে।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, তালিকাভুক্ত কোম্পানির বড় ধরনের সম্পদ অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তাই ডিএসইতে মূল্যসংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন, সম্পদের মূল্যায়ন এবং চূড়ান্ত হস্তান্তর প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে।
ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টদের ধারণা, রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত এ ভবনটি পূবালী ব্যাংকের করপোরেট কার্যক্রমকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। একই সঙ্গে আধুনিক অবকাঠামো ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবার মাধ্যমে গ্রাহকসেবার মান আরও উন্নত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে লেনদেনটি সম্পন্ন হওয়ার আগে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

Posted ১১:১০ এএম | শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
9 News Bd | s s


