শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

নিউক্লিয়ার ফিউশন জ্বালানি তৈরির সহায়ক উপাদান শনাক্ত করল কোয়ান্টাম কম্পিউটার

ফোকাসবাংলা২৪ ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট

নিউক্লিয়ার ফিউশন জ্বালানি তৈরির সহায়ক উপাদান শনাক্ত করল কোয়ান্টাম কম্পিউটার

পরিষ্কার, নিরাপদ ও প্রায় সীমাহীন জ্বালানির উৎস হিসেবে বিবেচিত নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রযুক্তির গবেষণায় নতুন অগ্রগতির খবর এসেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সাহায্যে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ফিউশন জ্বালানি প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষকদের মতে, প্রচলিত সুপারকম্পিউটারের তুলনায় কোয়ান্টাম কম্পিউটার অত্যন্ত জটিল আণবিক ও পরমাণবিক কাঠামোর আচরণ অনেক দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। এই সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানীরা এমন একটি পদার্থ বা উপাদানের বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করেছেন, যা ফিউশন চুল্লির ভেতরে ব্যবহৃত উপকরণ ও জ্বালানির কর্মক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

নিউক্লিয়ার ফিউশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে দুটি হালকা পরমাণুর কেন্দ্র একীভূত হয়ে একটি ভারী কেন্দ্র গঠন করে এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়। সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রে স্বাভাবিকভাবেই এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন হয়। পৃথিবীতে একই প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রিতভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

তবে এই প্রযুক্তিকে বাণিজ্যিকভাবে সফল করতে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপের পরিবেশে ফিউশন বিক্রিয়া স্থিতিশীল রাখা এবং সেই পরিবেশ সহ্য করতে পারে এমন উপকরণ তৈরি করা গবেষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন গবেষণায় শনাক্ত হওয়া উপাদান সেই সমস্যার সমাধানে সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের অন্যতম বড় শক্তি হলো এটি ইলেকট্রনের পারস্পরিক ক্রিয়া ও পদার্থের কোয়ান্টাম বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করতে পারে। ফলে নতুন উপকরণ আবিষ্কার, রাসায়নিক বিক্রিয়া বোঝা এবং জটিল বৈজ্ঞানিক সমস্যার সমাধানে এই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিউশন জ্বালানি প্রযুক্তির উন্নয়নে কোয়ান্টাম কম্পিউটারের এই ব্যবহার ভবিষ্যতে জ্বালানি গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। কারণ পরীক্ষাগারে দীর্ঘ সময় ব্যয় না করে কম্পিউটারভিত্তিক সিমুলেশনের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় উপকরণ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে ফিউশন শক্তি নিয়ে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ একাধিক দেশ পরীক্ষামূলক ফিউশন চুল্লি নির্মাণ এবং বাণিজ্যিক প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে। একই সঙ্গে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রযুক্তির উন্নয়নও দ্রুত এগিয়ে চলছে, যা ভবিষ্যতে এই গবেষণাকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

গবেষকদের ভাষ্য, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের একটি বৈজ্ঞানিক সাফল্য। তবে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করা গেলে পরিচ্ছন্ন ও টেকসই জ্বালানি উৎপাদনের পথে এটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রযুক্তির সমন্বয় আগামী কয়েক দশকে বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। এর মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানো, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানির চাহিদা পূরণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৮:৪৩ এএম | বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
------
Contact

-----------------

ফোন : --------------------

E-mail: -----------------------