নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট
রাজধানীর মহাখালীতে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার আলোচিত মামলায় স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মরদেহ গুমের দায়ে তাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার ষোড়শ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর খন্দকার শফি নেওয়াজ নাসির জানান, হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ফাতেমা বেগমকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩০ মে রাতে মহাখালীর আমতলী এলাকা থেকে একটি ড্রামের ভেতর মাথাবিহীন এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই রাতে মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে একটি ব্যাগে রাখা মরদেহের অন্যান্য অংশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন আরও কিছু অংশ উদ্ধার হলে নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হয়। পরে তদন্তে নিহত ব্যক্তি অটোরিকশাচালক ময়না মিয়া ওরফে শাকিল বলে শনাক্ত হন।
ঘটনার তদন্তে নেমে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা ১২ ঘণ্টার মধ্যেই নিহতের স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে গ্রেপ্তার করেন। তদন্তে উঠে আসে, পারিবারিক কলহ, অর্থনৈতিক বিরোধ এবং স্বামীর একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য দ্বন্দ্ব চলছিল। এ ঘটনার জেরে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন ২০২১ সালের ১ জুন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর ফাতেমা বেগমের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০২৩ সালের ১২ মার্চ অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয়।
বিচার চলাকালে ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জন সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন এবং মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
Posted ১২:৫৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
9 News Bd | s s