শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

কঠোর মুদ্রানীতিতে প্রবৃদ্ধিমুখী বাজেটের সুফল ম্লান হতে পারে: ডিসিসিআই সভাপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট

কঠোর মুদ্রানীতিতে প্রবৃদ্ধিমুখী বাজেটের সুফল ম্লান হতে পারে: ডিসিসিআই সভাপতি

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে নেমে এলেও বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংগঠনটির সভাপতি বলেন, এ সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক এবং এটি বিনিয়োগ ও শিল্প সম্প্রসারণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, টানা চার বছর ধরে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হলেও মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশিত মাত্রায় কমেনি। বরং গত মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

ডিসিসিআইর মতে, সদ্য অনুমোদিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে বিনিয়োগ, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন কর ও শুল্ক-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে সেই প্রবৃদ্ধিমুখী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন মুদ্রানীতিতে দেখা যায়নি। ফলে রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নীতি সুদহার উচ্চ পর্যায়ে থাকায় ঋণের ব্যয়ও কমছে না, যা বেসরকারি খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলকে স্বাগত জানিয়েছে ডিসিসিআই। তবে সংগঠনটি বলেছে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ তহবিলের সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র, কুটির, মাঝারি ও অতি ক্ষুদ্র শিল্প (সিএমএসএমই), রপ্তানিমুখী শিল্প এবং অন্যান্য উৎপাদনমুখী উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে, কম কাগজপত্রে এবং দ্রুত প্রক্রিয়ায় এ তহবিলের আওতায় আনতে হবে।

ডিসিসিআই আরও মনে করে, ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি সংকটে থাকা শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়া জরুরি। তাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের কাছে দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রণোদনার অর্থ পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটি সরকারের ব্যাংকঋণের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি। এর ফলে ব্যাংকিং খাতের সীমিত তারল্যের বড় একটি অংশ সরকারি খাতে চলে যাচ্ছে এবং বেসরকারি খাত পর্যাপ্ত ঋণ পাচ্ছে না। অথচ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

ডিসিসিআইর মতে, জাতীয় বাজেটে বিভিন্ন রাজস্ব প্রণোদনা থাকলেও সাশ্রয়ী ও পর্যাপ্ত অর্থায়নের সুযোগ নিশ্চিত না হলে এসব উদ্যোগের প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে না। বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বেসরকারি খাতনির্ভর টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় এবং নীতিগত সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:১৪ পিএম | মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
------
Contact

-----------------

ফোন : --------------------

E-mail: -----------------------