আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ভবন ধস, অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং জরুরি সেবায় বিপর্যয় নেমে আসায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় মাত্র এক মিনিটেরও কম ব্যবধানে দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল ইয়ারাকুয়ি অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে এলাকায়। মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে।
যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পগুলোর কারণে ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ভূমিকম্পের পর ১০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্য এবং এক লাখের বেশি প্রাণহানির ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রবল কম্পন অনুভূত হয়েছে। বহু ভবন ধসে পড়েছে, জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে উদ্ধারকর্মীদের কাছে সহায়তার আকুতি জানানো হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
এদিকে, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত থাকায় অনেক এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত দেশটিতে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে উদ্ধার তৎপরতা, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
Posted ৪:০৭ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
9 News Bd | s s