রবিবার ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

নকআউটের স্বপ্ন নিয়ে আর্জেন্টিনার সামনে অস্ট্রিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট   |   সোমবার, ২২ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট

নকআউটের স্বপ্ন নিয়ে আর্জেন্টিনার সামনে অস্ট্রিয়া

দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছে অস্ট্রিয়া। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছে রাল্ফ রাংনিকের দল। এবার ‘জে’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের সামনে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ডালাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচে জয়ী দল নিশ্চিত করবে নকআউট পর্বের টিকিট।

বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার ইতিহাস খুব সমৃদ্ধ না হলেও দলটি অতীতে একাধিকবার নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। ১৯৩৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত আটবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলেছে তারা। তাদের সেরা সাফল্য আসে ১৯৫৪ সালে, যখন তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল দলটি। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ৩০ ম্যাচ খেলে ১৩টি জয়, ৪টি ড্র এবং ১৩টি পরাজয় রয়েছে অস্ট্রিয়ার। বর্তমানে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান ২৩তম।

অস্ট্রিয়ার ফুটবল ইতিহাসে ‘ওয়ান্ডার টিম’ যুগ বিশেষভাবে স্মরণীয়। ১৯৩৪ বিশ্বকাপের আগে টানা কয়েক বছর ইউরোপীয় ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করেছিল দলটি। সেই আসরে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছালেও স্বাগতিক ইতালির কাছে হেরে শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে যায়। পরে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও পরাজিত হয়ে চতুর্থ স্থানে শেষ করে তারা।

অস্ট্রিয়ার শেষ বিশ্বকাপ উপস্থিতি ছিল ১৯৯৮ সালে। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত সেই আসরে তারা ইতালি, চিলি ও ক্যামেরুনের সঙ্গে একই গ্রুপে ছিল। তিন ম্যাচেই নাটকীয় শেষ মুহূর্তের গোল করলেও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় তাদের।

বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এরিখ প্রোবস্ট। ১৯৫৪ সালের আসরে তিনি একাই করেছিলেন ৬ গোল। একই আসরে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল অস্ট্রিয়া, যা এখনও বিশ্বকাপে তাদের সবচেয়ে বড় জয় হিসেবে বিবেচিত।

বর্তমান অস্ট্রিয়া দলের মূল কারিগর কোচ রাল্ফ রাংনিক। আধুনিক ফুটবলে উচ্চ-চাপ প্রয়োগভিত্তিক কৌশলের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত এই জার্মান কোচ ২০২২ সালে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন। তাঁর অধীনেই ইউরো এবং বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার সাফল্য পেয়েছে অস্ট্রিয়া।

দলের সবচেয়ে বড় তারকা ডেভিড আলাবা। বায়ার্ন মিউনিখ ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে অসংখ্য শিরোপা জেতা এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগের প্রধান ভরসা। পাশাপাশি মাঝমাঠে রোমানো শ্মিডও হতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। সৃজনশীলতা, পাসিং ও আক্রমণ গঠনে তার ভূমিকা দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস খুব দীর্ঘ নয়। দুই দলের মধ্যে আগে মাত্র দুটি স্বীকৃত প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৮০ সালে ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনার একমাত্র আন্তর্জাতিক হ্যাটট্রিকের সৌজন্যে ৫-১ গোলে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। এরপর ১৯৯০ সালে দুই দলের লড়াই ১-১ গোলে ড্র হয়।

ইতিহাস, অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও অস্ট্রিয়া যে চমক দেখানোর সামর্থ্য রাখে, তা তাদের বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তনের শুরুতেই প্রমাণিত হয়েছে। তাই ডালাসের ম্যাচটি শুধু নকআউটের লড়াই নয়, বরং দুই ভিন্ন ফুটবল ঐতিহ্যের আকর্ষণীয় এক দ্বৈরথও হতে যাচ্ছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১:৩২ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
শুভ শাহরিয়ার
Contact

৫৫-৫৫/১, রমনা, ঢাকা, বাংলাদেশ।

ফোন : +৮৮০১৯৭১৪৫৮২৫৭

E-mail: info@focusbangla24.com, focusbangla24online@gmail.com