শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ২১ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট

ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা

আগামী ১০ দিনে দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এর ফলে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, সুরমা, কুশিয়ারা, ভুগাই, কংস ও সোমেশ্বরী নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা এবং পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রোববার প্রকাশিত কেন্দ্রটির সাপ্তাহিক ধারণাগত পূর্বাভাসে বলা হয়, ২১ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং সংশ্লিষ্ট উজান এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময়ে কোথাও কোথাও ৩৫০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে আগামী সাত দিনের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী এলাকাও প্লাবনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

এ ছাড়া নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাগুলো সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ২১ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। ইতোমধ্যে এসব অঞ্চলে গত এক সপ্তাহে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বেড়েছে। আগামী এক সপ্তাহে এসব নদীর পানি আরও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুরের বিভিন্ন স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সোমেশ্বরী, জিঞ্জিরাম ও ভুগাই নদীর পানি কিছুটা কমলেও সারিগোয়াইন, যাদুকাটা ও কংস নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী কয়েক দিনে এসব নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে। এতে নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার কিছু এলাকায় সতর্কসীমা অতিক্রম করে সাময়িক জলাবদ্ধতা ও প্লাবন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

চট্টগ্রাম বিভাগের নদীগুলোর ক্ষেত্রেও পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রটি। যদিও গত ২৪ ঘণ্টায় মুহুরী ও হালদা নদীর পানি কিছুটা কমেছে, তবে ফেনী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, সেলোনিয়া ও গোমতী নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী সাত দিনে এসব নদীর পানিও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, গত দুই দিনে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে মেঘালয় ও সংলগ্ন উজান এলাকাতেও ভারী বর্ষণ হয়েছে, যেখানে কোনো কোনো স্থানে ৫০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তিন বিভাগে স্বল্পমেয়াদি বন্যা এবং পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে বন্যার তীব্রতা নির্ভর করবে আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতের পরিমাণের ওপর। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১:৪২ পিএম | রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
------
Contact

-----------------

ফোন : --------------------

E-mail: -----------------------