আন্তর্জাতিক ডেস্ক | শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য আগামী ৬০ দিনের ট্রানজিট ফি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চার্জ মওকুফের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। শুক্রবার (১৯ জুন) দেশটির কর্তৃপক্ষ এ ঘোষণা দেয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পাদিত সমঝোতার অংশ হিসেবে আগামী দুই মাস হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে কোনো ট্রানজিট ফি দিতে হবে না। নিরাপত্তা, পরিবেশগত সেবা এবং নির্দিষ্ট বীমা-সংক্রান্ত চার্জও এই সময়ের জন্য মওকুফ থাকবে। এসব ব্যয় বহন করবে ইরান সরকার।
তবে শুল্ক ও ফি মওকুফের সুবিধা পেলেও জাহাজগুলোকে কঠোর নিরাপত্তা ও পরিবেশগত নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। ইরান জানিয়েছে, দেশটির আঞ্চলিক জলসীমায় চলাচলের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সব বিধি-বিধান অনুসরণ বাধ্যতামূলক।
এদিকে সমঝোতা কার্যকরের পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও বাড়তে শুরু করেছে। ওমান উপকূল ও হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে ইতোমধ্যে জাহাজের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণার পর গত ২৪ ঘণ্টায় এ রুটে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য নতুন কিছু নির্দেশনাও জারি করেছে ইরানের পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ (পিজিএসএ)। সংস্থাটির নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রণালি অতিক্রম করতে ইচ্ছুক জাহাজগুলোকে নির্ধারিত সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে আগাম ট্রানজিট আবেদন জমা দিতে হবে। অনুমোদন পাওয়ার পরই তারা এই নৌপথ ব্যবহার করতে পারবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালিতে পৌঁছানোর অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে আবেদন জমা দিতে হবে। পাশাপাশি জাহাজের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও কার্যকর যোগাযোগের ঠিকানা সরবরাহ করতে হবে। আবেদন গ্রহণের জন্য পিজিএসএর সরকারি ওয়েবসাইট ও নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানাকে একমাত্র বৈধ মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
পিজিএসএ আরও জানিয়েছে, প্রণালির কিছু এলাকায় এখনও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে কিছু অঞ্চলে মাইনের সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে জাহাজগুলোকে নির্ধারিত রুট ও সময়সূচি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা লঙ্ঘনের ফলে কোনো দুর্ঘটনা বা ক্ষয়ক্ষতি হলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট জাহাজ মালিক বা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তাবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিকভাবে একটি ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে সই করেন। চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশ ৬০ দিনব্যাপী আলোচনা চালাবে। এর অংশ হিসেবেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Posted ১১:৫৫ এএম | শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
9 News Bd | s s


