নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এখন শুধু দলের নয়, দেশের মানুষের প্রত্যাশায় পরিণত হয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দলের চেয়ে জনগণের ভূমিকাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘বিএনপির কিছু করা লাগবে না, জনগণ সতর্ক থাকলেই আমাদের কাজ হয়ে যাবে। কারণ দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। মালিক সতর্ক থাকলে অন্য কোনো শক্তি জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যেতে পারবে না।’
বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তৃতীয় পর্যায়ের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে জনগণেরও দায়িত্ব রয়েছে। সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করছে, তবে এসব উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো একক ব্যক্তি, দল বা পরিবারের নয়; এটি ২০ কোটি মানুষের দেশ। তাই দেশের অগ্রগতি মানেই দেশের প্রতিটি মানুষের অগ্রগতি।
অতীতের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা যখনই স্থিতিশীলতার পথে এগিয়েছে, তখনই বিভিন্ন মহল অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করেছে। দীর্ঘদিন হরতাল, অবরোধ ও সহিংসতায় দেশের ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু এখন দেশের মানুষ শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন চায়।
সরকারের চলমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের কোটি কোটি পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তার আওতায় আনা হচ্ছে। নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সহায়তা এবং ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য সম্মানী প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাল পুনঃখনন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, যারা সরকারকে কাজ করার সময় দিতে চায় না, তারা মূলত জনগণের স্বার্থ নয়, নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ।
তিনি বলেন, জনগণ বিএনপিকে পাঁচ বছরের জন্য দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তাই সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টা সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।
গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নিপীড়ন, গুম, নির্যাতন ও কারাভোগের শিকার হওয়া মানুষের বড় একটি অংশ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। তাদের ত্যাগের ফলেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
দেশ থেকে অর্থ পাচার রোধে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না। রাষ্ট্রের সম্পদ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করা হবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর অর্থায়নও সেখান থেকেই নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণই দেশ স্বাধীন করেছে, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেশ গঠনের প্রধান শক্তি হবে জনগণ। আগামী দিনের রাজনীতি হবে উন্নয়ন ও রাষ্ট্রগঠনের রাজনীতি। ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রবাসী কল্যাণ, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শ্রীমঙ্গলে এবং পরে মৌলভীবাজারে আয়োজিত পৃথক অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আর্থিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ অনুদান এবং চা-শ্রমিকদের আবাসন সহায়তার চেক ও বরাদ্দপত্র বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

Posted ৩:০৩ পিএম | বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
9 News Bd | s s


