নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট
রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা এবং পরবর্তীতে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তের পর ঢাকার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের সেবার মান ও রোগী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রমনা ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে মাতৃসেবা ও নবজাতক চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অনেকে জানান, সন্তান জন্মদান ও প্রসূতি সেবার জন্য দীর্ঘদিন ধরে তারা আদ-দ্বীন, মনোয়ারা ও হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক ঘটনার পর তাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—অন্যান্য হাসপাতালগুলোতে রোগী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেবার মান কতটা কার্যকরভাবে তদারকি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মনোয়ারা হাসপাতালের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিনিধি কথা বলতে রাজি হননি। হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মোহাম্মদ আরিফ হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সহকারী তৌহিদুল ইসলাম জানান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যস্ত রয়েছেন এবং পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব নয়। পরে মিডিয়া বিভাগের কারও সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানানো হলেও কেউ আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রতিবেদক সরাসরি হাসপাতালেও গেলেও কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলো নিয়মিত তদারকির আওতায় রয়েছে। হাসপাতালের অবকাঠামো, চিকিৎসা সেবা, জনবল, লাইসেন্স এবং রোগী নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রয়োজনে যেকোনো হাসপাতাল পরিদর্শন করা হয়। কোথাও অনিয়ম বা রোগী নিরাপত্তার ঘাটতি পাওয়া গেলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের মতে, জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হাসপাতালগুলোর স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অভিযোগ বা জনমনে উদ্বেগ তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উচিত দ্রুত তথ্য প্রদান এবং তাদের সেবার মান সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া।
এদিকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের উপপরিচালক (মেডিকেল) এ কে এম জিয়াউর রহমান জানান, অস্ত্রোপচারের পর রোগীদের বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয় এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তরের ব্যবস্থা রয়েছে। নবজাতকদেরও বিশেষজ্ঞ শিশু চিকিৎসক দলের সরাসরি তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। তিনি বলেন, কোনো জটিলতা দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তরের ব্যবস্থা রয়েছে। নবজাতকদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ শিশু চিকিৎসক দলের সরাসরি তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা হয়। মায়েদের কাছে নেওয়ার আগে এবং পরে প্রশিক্ষিত নার্সরা নবজাতকদের প্রয়োজনীয় পরিচর্যা দিয়ে থাকেন।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তা প্রমাণিত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। তবে অভিযোগের যথাযথ তদন্ত, নিয়মিত পরিদর্শন এবং মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি। আদ-দ্বীনের ঘটনার পর রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে সেবার মান ও রোগী নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার জবাবে কার্যকর তদারকি, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতাই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
Posted ১১:২১ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
9 News Bd | s s