নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট

পুলিশ সদস্যদের নিজ জেলার মহানগর পুলিশ ইউনিটে পদায়ন বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এই নীতি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহানগর পুলিশে কর্মরত এবং একই জেলায় স্থায়ী ঠিকানা থাকা সদস্যদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শতাধিক পুলিশ সদস্যকে অন্যত্র বদলি করা হতে পারে।
পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় আত্মীয়তা, সামাজিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক যোগাযোগ কিংবা আর্থিক স্বার্থের প্রভাবমুক্ত থেকে দায়িত্ব পালনের স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে থেকেই নিজ জেলায় জেলা পুলিশে পদায়নের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মহানগর পুলিশের ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়নি। তবে ২০২১-২২ সাল থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশ ছাড়া দেশের অন্যান্য মহানগর ইউনিটে একই জেলার বাসিন্দাদের নতুন করে পদায়ন প্রায় বন্ধ ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, অতীতে কিছু পুলিশ সদস্য নিজ জেলার মহানগরে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মাদক ব্যবসা, স্থানীয় অপরাধী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং বদলি ঠেকাতে তদবিরের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই নীতিটি আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন নিজ এলাকায় দায়িত্ব পালন করলে কিছু সদস্য স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, দখলদার, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি ও পরিবহন খাতের প্রভাবশালীদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিশেষ করে গোয়েন্দা শাখা, থানা, ট্রাফিক ও অপরাধ দমন ইউনিটে দীর্ঘ সময় কর্মরত থাকলে এমন নেটওয়ার্ক তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এতে নিরপেক্ষ পুলিশিং ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ সদর দপ্তর।
সম্প্রতি খুলনা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক তৈমুর ইসলামকে ঘিরে ওঠা নানা অভিযোগ বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তাঁর বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ আদায় এবং স্থানীয় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁকে খুলনা মহানগর পুলিশ থেকে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, কনস্টেবল থেকে উপপরিদর্শক পর্যায় পর্যন্ত শতাধিক সদস্যের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কয়েকজন পরিদর্শকের নামও তালিকায় রয়েছে। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের ক্ষেত্রে একই নীতি কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র সহকারী মহাপরিদর্শক এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেছেন, মহানগর পুলিশে নিজ জেলার বাসিন্দা হয়েও যারা এখনও কর্মরত রয়েছেন, তাদের বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Posted ৮:৩৯ এএম | মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬
9 News Bd | s s


