রবিবার ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় উভয় আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, আদায়কৃত অর্থ ভুক্তভোগী রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রদান করতে হবে।

রায়ে আরও বলা হয়, নির্ধারিত অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ রামিসার উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা যায়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে স্বপ্না খাতুনকে এবং পরে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে সোহেল রানাকে আদালতে আনা হয়। রায় ঘোষণার আগে দুজনকে এজলাসে হাজির করা হয়। বেলা ১১টার পর বিচারক রায় পাঠ শুরু করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাকে কৌশলে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান স্বপ্না খাতুন। পরে সেখানে সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে। রামিসার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সোহেলের বাসার সামনে তার জুতা দেখতে পান। সন্দেহের ভিত্তিতে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির মধ্যে তার মাথা উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন রামিসার বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মাত্র চার দিনের মাথায় তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়।

গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে অধিকাংশ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ সম্পন্ন হয়। ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের জন্য ৭ জুন দিন নির্ধারণ করেন।

ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় এটি সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুততম নিষ্পত্তি হওয়া আলোচিত মামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
শুভ শাহরিয়ার
Contact

-----------------

ফোন : --------------------

E-mail: -----------------------