ফোকাসবাংলা২৪ ডেস্ক | শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট

ফুটবল এখন শুধু একটি খেলা নয়, এটি বহু বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক শিল্প। মাঠের পারফরম্যান্স, বয়স, সম্ভাবনা, জনপ্রিয়তা এবং বাণিজ্যিক মূল্য—সবকিছু মিলিয়ে একজন ফুটবলারের বাজারমূল্য নির্ধারিত হয়। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রকাশিত সাম্প্রতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলারদের তালিকায় আধিপত্য বিস্তার করেছে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা।
তালিকার শীর্ষে রয়েছেন স্পেনের তরুণ বিস্ময় লামিন ইয়ামাল। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তার বাজারমূল্য পৌঁছেছে ২০০ মিলিয়ন ইউরোতে। বার্সেলোনার এই উইঙ্গার ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হয়েছেন। স্পেনের হয়ে ইউরো জয় এবং ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিক সাফল্য তাকে শীর্ষে নিয়ে এসেছে।
একই বাজারমূল্য নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হলান্ড। আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে ভয়ংকর স্ট্রাইকারদের একজন হিসেবে পরিচিত হলান্ড গোল করার অসাধারণ ক্ষমতার কারণে বিশ্বের যেকোনো ক্লাবের কাছে অমূল্য সম্পদ।
তৃতীয় স্থানে আছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় এই তারকা এখনও সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড়দের একজন। গতি, দক্ষতা এবং বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার সামর্থ্য তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
চতুর্থ স্থানে রয়েছেন স্পেনের মিডফিল্ডার পেদ্রি। খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত পাস এবং অসাধারণ ফুটবল বুদ্ধিমত্তার কারণে তিনি বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে বিবেচিত। তার বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ১৫০ মিলিয়ন ইউরো।
একই মূল্য নিয়ে তালিকার পরবর্তী দুটি স্থানে আছেন ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসে এবং ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ওলিসে আক্রমণভাগে সৃজনশীলতার জন্য পরিচিত, আর ভিনিসিয়ুস দীর্ঘদিন ধরেই ব্রাজিলের আক্রমণভাগের প্রধান ভরসা।
সপ্তম স্থানে রয়েছেন পর্তুগালের জোয়াও নেভেস। অল্প বয়সেই মধ্যমাঠে অসাধারণ পরিপক্বতা দেখিয়ে তিনি ইউরোপের অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন। অষ্টম স্থানে আছেন ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম, যাকে অনেকেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে বিবেচনা করেন।
নবম স্থানে রয়েছেন পর্তুগালের ভিতিনিয়া। মাঠে খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণ গড়ে তোলার দক্ষতায় তিনি দ্রুতই বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডারদের কাতারে জায়গা করে নিয়েছেন।
তালিকার দশম স্থানে যৌথভাবে অবস্থান করছেন উরুগুয়ের ফেদেরিকো ভালভার্দে, ফ্রান্সের দেজিরে দুয়ে এবং ইংল্যান্ডের বুকায়ো সাকা ও ডেকলান রাইস। চারজনই নিজ নিজ জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং ক্লাব ফুটবলেও নিয়মিত সাফল্য অর্জন করছেন।
এই তালিকার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো তরুণদের আধিপত্য। একসময় ফুটবলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতেন লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কিংবা নেইমারের মতো তারকারা। এখন সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে ইয়ামাল, হলান্ড, বেলিংহ্যাম ও পেদ্রিদের মতো নতুন প্রজন্ম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ফুটবল অর্থনীতিতে কেবল বর্তমান পারফরম্যান্স নয়, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও বাজারমূল্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। তাই ক্লাবগুলো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অংশ হিসেবে কম বয়সী প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দিকে ঝুঁকছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ তাই শুধু শিরোপা জয়ের লড়াই নয়; এটি বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ফুটবলারদের নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণেরও মঞ্চ। ইয়ামাল, হলান্ড, এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস কিংবা বেলিংহ্যামদের পারফরম্যান্সই হয়তো নির্ধারণ করবে আগামী কয়েক বছরের বিশ্ব ফুটবলের নতুন মানচিত্র।

Posted ১০:৫২ এএম | শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
9 News Bd | s s


