আন্তর্জাতিক ডেস্ক | শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। হরমুজ প্রণালির দুটি দ্বীপে মার্কিন ড্রোন হামলার জবাব হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, হরমুজ প্রণালিতে অনুমোদনবিহীন তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। তাদের দাবি, সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে চারটি ট্যাংকার হরমুজ অতিক্রমের চেষ্টা করলে একটি জাহাজে আঘাত হানা হয় এবং সেটি থেমে যায়, অন্যগুলো ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এর কিছুক্ষণ পর মার্কিন ড্রোন হামলায় কেশম দ্বীপ ও সিরিক এলাকায় অবস্থিত দুটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপরই কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।
বিবৃতিতে ইরান সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা পুনরাবৃত্তি হলে তাদের প্রতিক্রিয়া আরও ব্যাপক হবে। পাশাপাশি মার্কিন-ইসরায়েলি জোটকে উদ্দেশ করে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং এর ফলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহনে যে প্রভাব পড়বে, তার দায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকেই বহন করতে হবে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ৪০ দিনের সংঘাতে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ৩ হাজার ৩৭৫ জন ইরানি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ ও ৪৯৬ জন নারী রয়েছেন। এছাড়া ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত এবং ২৬ জন নিহত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আইআরজিসির এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Posted ৭:৫০ এএম | শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
9 News Bd | s s


