| শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক:
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও দুর্নীতি দমনসহ গুরুত্বপূর্ণ ২০টি অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ে জাতীয় সংসদের অনুমোদন না পাওয়ায় শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকে কার্যকারিতা হারাচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে এগুলো অনুমোদন না হওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পর্যন্ত সংসদে মোট ৯১টি বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে ৮৭টি বিলের মাধ্যমে ১১৩টি অধ্যাদেশ (সংশোধনীসহ) বৈধতা পেয়েছে। পাশাপাশি চারটি বিল পাস করে সাতটি অধ্যাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে বিল আকারে উপস্থাপন না হওয়ায় ১৩টি অধ্যাদেশ আগেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় গত ১২ মার্চ। সেই হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশ অনুমোদনের শেষ দিন ছিল ১০ এপ্রিল।
এ বিষয়কে ঘিরে সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে যে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছিল, সরকার তা মানেনি। তাঁর দাবি, গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যাদেশ সংসদে তোলা হয়নি, ফলে সেগুলো বাতিল হয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মারক জাদুঘর বিলটি পরিবর্তন ছাড়া পাস করার সিদ্ধান্ত থাকলেও শেষ পর্যন্ত সংশোধনী যুক্ত করে তা গৃহীত হয়েছে, যা সমঝোতার পরিপন্থী।
অন্যদিকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্তসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করতে পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে পরে সেগুলো সংসদে আনা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংসদকে জানান, পরবর্তীতে এসব অধ্যাদেশ আবার উপস্থাপন করা হবে।
সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হওয়া সাতটি অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয় সংক্রান্ত বিভিন্ন অধ্যাদেশ। এছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত কয়েকটি অধ্যাদেশও বাতিল হয়েছে।
অন্যদিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়া ১৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে গণভোট, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশনের সংশোধনী, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, ভ্যাট, কাস্টমস, আয়কর, বেসামরিক বিমান চলাচল, ট্রাভেল এজেন্সি নিয়ন্ত্রণ, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক এবং তথ্য অধিকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ।
অধ্যাদেশ অনুমোদনের শেষ দিনে সংসদ ২৪টি বিল পাস করে। এর বেশিরভাগই সর্বসম্মতভাবে পাস হলেও কয়েকটি বিল বিরোধী দলের আপত্তির মুখে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে গৃহীত হয়।
সর্বসম্মতভাবে পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের কল্যাণ, বিভিন্ন আঞ্চলিক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন, আমানত সুরক্ষা, কর ও শুল্ক সংশোধন, সাইবার নিরাপত্তা, গ্রামীণ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক সংশোধনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ আইন।
তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মারক জাদুঘর বিল এবং ব্যাংক রেজোলিউশন বিল বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যেই পাস হয়। এছাড়া বিরোধী সদস্যদের অনুপস্থিতিতে তামাক নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিলও গৃহীত হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশন আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।
এদিকে ওয়াকআউটের পর সংসদ ভবনের বাইরে সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দল অভিযোগ করে, গুরুত্বপূর্ণ জননিরাপত্তা-সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো বাতিল হতে দেওয়া হয়েছে, যা সংসদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল।
বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, বিরোধী সদস্যদের কথা বলার সুযোগ সীমিত রাখা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যথাযথ আলোচনায় আনা হয়নি। তাঁর ভাষায়, এতে সংসদের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।
শফিকুর রহমানও অভিযোগ করেন, বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে বিরোধী দলের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি এবং আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি বিল পাস করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে শেষ দিন মধ্যরাত পর্যন্ত আলোচনা চালানোর সিদ্ধান্ত থাকলেও পুলিশ কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও গুম-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়নি।
বিরোধী দলের অভিযোগ, সংসদে এমন কিছু সিদ্ধান্তই গৃহীত হয়েছে যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করতে পারে। নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও সংসদে অংশ নেওয়ার পরও প্রক্রিয়াগত নানা অনিয়ম হয়েছে বলেও তারা দাবি করে।
Posted ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
9 News Bd | s s